Powered by Blogger.

Showing posts with label পদার্থবিজ্ঞান. Show all posts
Showing posts with label পদার্থবিজ্ঞান. Show all posts

পদার্থবিজ্ঞানের সাধারন কিছু তথ্য, জানা থাকলে এগিয়ে থাকবেন ।

  • পদার্থের ক্ষুদ্রতমা কণা – অণু ।
  • পদার্থের স্থায়ী মূল কণিকা – ইলেকট্রোন, প্রোটন ও নিউট্রন ।
  • তেজস্ক্রিয় রশ্মিতে থাকে – আলফা, বিটা ও গামা কনিকা ।
  • পদার্থের পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যা – পরস্পর সমান ।
  • পৃথিবী ও উহার নিকটস্থ মধ্যকার বস্তুর আকর্ষণ বলকে বলে – অভিকর্ষ বল ।
  • বরফ গলনের সুপ্ত তাপ – ৮০ ক্যালরি ।
  • ০০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় শব্দের গতি – ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড ।
  • সুর্যোদয় ও সুর্যাস্তের সময় আকাশ লাল দেখায় – লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বলে ।
  • সূর্য থেকে পৃথিবীতে আগত রশ্মি – সৌর রশ্মি ।
  • পৃথিবী ঘূর্ণায়নের ফলে আমরা ছিটকিয়ে পড়ি না – মধ্যাকর্ষণের জন্য ।
  • প্রেসার কুকারে রান্না তারাতারি হওয়ার কারন – উচ্চ চাপে তরলের স্ফুটনাংক বৃদ্ধি পায় ।
  • চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয় – কালো রংয়ের কাপে (কাল রংয়ের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি)।
  • চা দেরীতে ঠান্ডা হয় –  সাদা রংয়ের কাপে (সাদা রংয়ের তাপ শোষণ ক্ষমতা কম)।
  • শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি  – কঠিন মাধ্যমে ।
  • শব্দের গতি সবচেয়ে কম  – বায়বীয় মাধ্যমে ।
  • তিনটি মূখ্য বর্ণ – লাল, সবুজ ও নীল ।
  • ৪০ সে: তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব – সর্বোচ্চ ।
  • ইউরেনিয়াম, নেপচুনিয়াম প্লুটোনিয়াম হল – তেজস্ক্রিয় পদার্থ ।
  • রাবারের স্থিতিস্থাপকতা কম এবং লোহা বা ইস্পাতের স্থিতিস্থাপকতা বেশি ।
  • উন্নত ধরণের বিস্ফোরোক আবিষ্কার করে ধনী হয়েছিলেন – আলফ্রেড নোবেল ।
  • ডিজিটাল ফোনের প্রধান বৈশিষ্ঠ – ডিজিটাল সিগনাল ডেটাবেজ ।
  • পীট কয়লা – ভিজা ও নরম ।
  • তাপ আটকা পড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে বলে – গ্রীনহাউজ ইফেক্ট।
  • পরমাণু ভেঙ্গে প্রচন্ড শক্তি সৃস্টি করাকে বলে – ফিউশন বিক্রিয়া ।
  • বায়ু এক প্রকার – মিশ্র পদার্থ ।
  • লোহার উপর দস্তার প্রলেপ দেয়াকে বলে – গ্যালভানাইজিং ।
  • আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে – মরিচিকায় ।
  • পানি বরফে পরিণত হলে – আয়তনে বাড়ে ।
  • পানি কঠিন, তরল ও বায়বীয় অবস্থায় থাকতে পারে ।
  • বৈদুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট তৈরী – টাংস্টেন দিয়ে ।
  • CFC বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ধ্বংস করে  – ওজন স্তর ।
  • ডুবোজাহাজ হতে পানির উপরে দেখার জন্য ব্যবহৃত হয় – পেরিস্কোপ ।
  • ব্যাটারি হতে পাওয়া যায় – ডিসি কারেন্ট ।
  • সর্বোত্তম তড়িৎ পরিবাহক – তামা ।
  • ডিনামাইট আবিস্কার করেন – আলফ্রেড নোবেল ।
  • পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত হয় – গ্রাফাইট ।
  • শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে চলে – সুপারসনিক বিমান ।
  • বায়ুতে বা শুণ্য স্থানে শব্দের গতি – ৩x১০১০ সে. মি. ।
  • কাঁচা লোহা, ইস্পাত ও কোবাল্ট – চুম্বক পদার্থ ।
  • আলোর নিয়মিত প্রতিফলণ ঘটে – দর্পনে ।
  • স্টিফেন হকিন্স একজন – পদার্থবিদ ।
  • পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি – জীবাস্ম জালানি ।
  • জীব-জগতের সবচেয়ে ক্ষতিকর রশ্মি – অতি বেগুণী রশ্মি ।
  • এক্সরে এর একক – রনজেন ।
  • তেজস্ক্রীয়তার একক কুরি ও এর আবিস্কারক – হেনরী বেকুইরেল ।
  • রেডিয়াম আবিস্কার করেন – মাদাম কুরি ।
  • পারমাণবিক বোমা উৎপন্ন হয় – ফিশন পদ্ধতিতে ।
  • হাইড্রোজেন বোমা উৎপন্ন হয় – ফিউশন পদ্ধতিতে ।
  • পারমানবিক ওজন = প্রোটন ও নিউট্রনের ওজন ।
  • প্লবতা সূত্র আবিস্কার করেন – আর্কিমিডিস ।
  • দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিস্কার করেন – গ্যালিলিও ।
  • গতির সূত্র আবিস্কার করেন – নিউটন ।
  • আপেক্ষিকতার সূত্র আবিস্কার করেন – আলবার্ট আইনস্টাইন ।
  • মৌলিক রাশিগুলো হলো – দৈর্ঘ, ভর, সময়, তাপমাত্রা, তড়িৎপ্রবাহ, দীপন ক্ষমতা ও পদার্থের পরিমাণ।
  • লব্ধ রাশি – বল, ত্বরণ, কাজ, তাপ, বেগ প্রভৃতি ।
  • ভেক্টর রাশি – সরণ, ওজন, বেগ, ত্বরণ, বল, তড়িৎ প্রাবল্য, মন্দন, ভেদাঙ্ক ইত্যাদি ।
  • স্কেলার রাশি – দৈর্ঘ, ভর, দ্রূতি, কাজ, তড়িৎ বিভব, সময়, তাপমাত্রা ইত্যাদি ।
  • পরিমাপের আন্তর্জাতিক পদ্ধতি হল – এস. আই. S. I. ।
  • ভর হচ্ছে পদার্থের – জড়তার পরিমাণ।
  • এই মহাবিশ্বে পরম স্থিতিশীল এবং পরম গতিশীল বলে কিছু নেই ।
  • নিউটনের গতি সূত্র – তিনটি ।
  • নিউটনের বিখ্যাত বই – “ন্যচারাল ফিলোসোফিয়া প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা” ।
  • বিদ্যুৎ শক্তির হিসাব করা হয় – কিলোওয়াট / ঘন্টা kw/h ।
  • ১ অশ্ব শক্তি (H.P.) = ৭৪৬ ওয়াট বা ৫৫০ ফুট-পাউন্ডাল শক্তি ।
  • মহাবিশ্বের যে কোন দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পারিক আকর্ষণ বল হল – মহাকর্ষ বল ।
  • পৃথিবী ও বিশ্বের যে কোন বস্তুর মধ্যকার পারস্পারিক আকর্ষণ বল হল – অভিকর্ষ বল ।
  • অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর মান – পৃথিবীর কেন্দ্রে শূন্য, বিষুবীয় অঞ্চলে সবচেয়ে কম, মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশী ।
  • চন্দ্র পৃষ্ঠে অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর মান পৃথিবীর মানের ১/৬ ভাগ ।
  • পৃথিবীর মুক্তিবেগ – ১১.২ কি.মি./সে. ।
  • মঙ্গল গ্রহের মুক্তি বেগ – ৫.১ কি.মি./সে. ।
  • গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র কয়টি – তিনটি ।
  • ইস্পাত ও রাবারের মধ্যে বেশী স্থিতিস্থাপক – ইস্পাত ।
  • বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় – শব্দ ।
  • পানির তরঙ্গ, আলোক তরঙ্গ, তাপ তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ ইত্যাদি হলো – অনুপ্রস্থ বা আড় তরঙ্গ ।
  • শব্দ তর তরঙ্গ  হলো – অনুদৈর্ঘ বা লাম্বিক তরঙ্গ ।
  • পানিতে ঢিল ছুড়লে চলমান যে তরঙ্গের সৃষ্ঠি হয় – অনুপ্রস্থ তরঙ্গ ।
  • টানা তারের সূত্র কয়টি – তিনটি ।
  • শব্দ সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজন – জড় মাধ্যমের ।
  • শুন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ – শুন্য ।
  • স্বাভাবিক অবস্থায় বাতাসে শব্দের দ্রুতি – ৩৩২ মি./সে. ।
  • স্বাভাবিক অবস্থায় পানিতে শব্দের দ্রুতি – ১৪৫০ মি./সে. ।
  • স্বাভাবিক অবস্থায় লোহায় শব্দের দ্রুতি – ৫২২১ মি./সে. ।
  • শব্দের বেগের উপর প্রভাব আছে – তাপ, আদ্রতা ও বায়ু প্রবাহ ।
  • শ্রাব্যতার সীমা – ২০-২০০০০ Hz ।
  • ইনফ্রাসোনিক বা শব্দোত্তর বা অশ্রুতি শব্দ – ২০ Hz
  • আল্ট্রাসোনিক বা শব্দোত্তর শব্দ – ২০০০০ Hz এর বেশী ।
  • প্রতিধ্বনি শোনার জন্য সময়ের প্রয়োজন – ০.১ সে. ।
  • প্রতিধ্বনি শোনার জন্য প্রতিফলক ও উৎসের মধ্যে নুন্যতম দূরত্ব – ১৬.৬ মিটার ।
  • কোন শব্দ মানুষের কর্ণকুহরে প্রবেশ করলে বধির হয় – ১০৫ ডেসিবেলের উপর সৃষ্ঠ শব্দ ।
  • বাদুর চলাচলের সময় কি প্রয়োগ করে – প্রতিধ্বনি ।
  • তাপ এক প্রকার – শক্তি ।
  • পানির স্বাভাবিক স্ফুটনাংক স্বাভাবিক চাপে -১০০০ সেলসিয়াস ।
  • প্রেসার কুকারের মূলনীতি – চাপে পানি বেশী তাপমাত্রায় ফুটে ।
  • ভূ-পৃষ্ঠ হতে যত উপরে উঠা যায় তত কমে – স্ফুটনাংক ।
  • বস্তুর তাপ শোষণ ক্ষমতা নির্ভর করে – রঙের উপর ।
  • শীতকালে রঙিন কাপড় আরামদায়ক ।
  • গরমকালে সাদা কাপড় আরামদায়ক ।
  • পেট্রোল ইঞ্জিন আবিস্কৃত হয় – ১৮৮৬ ইং সালে ।
  • ফ্রেয়নের রাসায়নিক নাম – ডাই-ক্লোরো ডাই ফ্লোরো মিথেন ।
  • ফারেনহাইট ও সেলসিয়াস স্কেলে সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে – (- ৪০০ ) তাপমাত্রায় ।
  • স্বাভাবিক অবস্থায় একজন মানুষের উপর প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে বায়ুর চাপ – ১৫ পাউন্ড ।
  • ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে দাগ কাটা থাকে – (৯০০ -১১০০) F ।
  • থার্মোমিটারে পারদ ব্যবহারের কারণ – অল্প তাপে আয়তন বৃদ্ধি পায় ।
  • আলো এক প্রকার – শক্তি ।
  • আলোক মাধ্যম – তিনটি , ১) স্বচ্ছ, ২) ঈষদ স্বচ্ছ ও ৩) অস্বচ্ছ ।
  • প্রতিফলনের সূত্র – দুইটি ।
  • প্রতিসরণের সূত্র  – দুইটি ।
  • পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের শর্ত – দুটি ।
  • সাদা আলো সাতটি বর্ণের সমাহার ।
  • লেন্স দুই প্রকার ১) অপসারী, ২) অভিসারী।
  • দৃষ্টির ত্রুটি মোট চারটি – ১) হ্রস্ব দৃষ্টি, ২) দীর্ঘ দৃষ্টি, ৩) বার্ধক্য দৃষ্টি ও ৪) বিষম দৃষ্টি বা নকুলা ।
  • তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেশি – লাল আলোর ।
  • তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম – বেগুনী আলোর ।
  • বিক্ষেপণ কম – লাল আলোর ।
  • বস্তুর বর্ণ পদার্থের কোন ধর্ম নয়, এটি আলোকের একটি ধর্ম ।
  • নীল কাচের মধ্য দিয়ে হলুদ ফুল – কালো দেখায় ।
  • লাল আলোতে গাছের পাতা – কালো দেখায় ।
  • নীল কাচের মধ্য দিয়ে সাদা ফুল – নীল দেখায় ।
  • লাল ফুলকে সবুজ আলোয় – কালো দেখায় ।
  • সূর্য রশ্মি শরীরে পড়লে – ভিটামিন ডি তৈরী হয় ।
  • সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ – গামা রশ্মি ।
  • সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকিরণ – বেগুণী রশ্মি ।
  • শরীরের ত্বকে ভিটামিন তৈরীতে সাহায্য করে – পরিমিত অতিবেগুণী রশ্মি ।
  • আমাদের দর্শনাভূতির স্থায়িত্বকাল – ০.১ সেকেন্ড ।
  • যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিকনির্দশক ধর্ম আছে – চম্বুক পদার্থ ।
  • চৌম্বকের চুম্বকত্ব একটি – ভৌত ধর্ম ।
  • চৌম্বকের প্রকারভেদ – ১) প্রাকৃতিক চৌম্বক, ২) কৃত্রিম চৌম্বক ও ৩) তড়িৎ চৌম্বক ।
  • চৌম্বক পদার্থ – টিন, আয়রণ, কপার, কোবাল্ট, নিকেল ইত্যাদি ।
  • চৌম্বক পদার্থের প্রকারভেদ – ১) ডায়া চৌম্বক, ২) প্যারা চৌম্বক ও ৩) ফেরো চৌম্বক ।
  • মেরু অঞ্চলে চৌম্বকের আকর্ষণ – সবচেয়ে বেশী ।
  • পৃথিবীর চৌম্বক উত্তর মেরু আসলে – পৃথিবীর ভৌগলিক দক্ষিণ ।
  • তড়িৎ দুই প্রকার – ১) স্থির তড়িৎ ও ২) চল তড়িৎ ।
  • চল তড়িৎ দুই প্রকার – ১) এ. সি. তড়িৎ  ২) ডি. সি. তড়িৎ ।
  • আমদের দেশে তড়িৎ প্রবাহ সেকেন্ডে দিক পরিবর্তন করে – ৫০ বার ।
  • ডি. সি. প্রবাহ পাওয়া যায় – ব্যাটারি থেকে ।
  • রোধ পরিবাহীর চারটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে – ১)  উপাদান, ২) দৈর্ঘ্য, ৩)  প্রস্থচ্ছেদ ও ৪) তাপমাত্রা ।
  • মাধ্যম তিন প্রকার – ১) পরিবাহী, ২) অর্ধপরিবাহী, ৩) অন্তরক বা অপরিবাহী।
  • রাডার (Radar) হলো – Radio Detection and Ranging ।
  • অপটিক্যাল ফাইবারে ডাটা পাস এর কাজে ব্যবহৃত হয় – পূর্ণঅভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ।
  • ইলেকট্রনিক্স এর যাত্রা শুরু – ট্রানজিস্টরের আবিস্করের সময় ।
  • ক্যামেরার লেন্সের পেছনের পর্দায় আস্তরণ দেয়া হয় – সিজিয়াম দিয়ে ।

পড়ন্ত বস্তুর গতি-বিস্তারিত আলোচনা

আজকে আমি গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর সূত্রের সাহায্যে ব্যবহারিক তথা গাণিতিক সমস্যা সমাধান করা নিয়ে আলোচনা করবো।
আশা করি আমরা সবাই গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর সূত্রগুলো জানি। সূত্রের গাণিতিক রূপ এরকম:
১। v = u + gt
২। h = ut + ½ gt2
৩। v2 = u2 + 2gh
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ফিজিক্সের বইগুলোতে সাধারণত লেখা থাকে যে, (ঊর্ধ্বে) নিক্ষিপ্ত বস্তুর ক্ষেত্রে শুধু ত্বরণ নেগেটিভ দিয়ে দিলেই হবে। সেক্ষত্রে সূত্রগুলো হবে:
১.১। v = u – gt
২.১। h = ut – ½ gt2
৩.১। v2 = u2 – 2gh
কিন্তু এই কথাটা বিষয়টাকে ক্লিয়ার তো করেই না, বরং আরো গুলিয়ে দেয় ও স্টুডেন্টদের কনফিউজড করে দেয়। বিশেষ করে এই পদ্ধতিতে সহজ ও ছোট-খাটো সমস্যার সমাধান করা গেলেও, প্রাসের গতি বা নিক্ষিপ্ত বস্তু সর্বোচ্চ উচ্চতায় ওঠার পর যখন আবার পড়ন্ত বস্তুতে পরিণত হয়, ইত্যাদি কিঞ্চিত জটিল সমস্যা সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তাহলে দেখা যাক, সূত্রগুলোকে আসলে কীভাবে ব্যবহার করা যায়। সবার প্রথমে আমাদের যেটা করতে হবে, তা হলো যেকোনো এক দিককে (উপরের দিক অথবা নিচের দিক) পজিটিভ ও অপর দিককে নেগেটিভ ধরে নিতে হবে। এই ধরার ব্যাপারটা আরবিট্রারি তথা ইচ্ছাধীন। যেমন, আপনি চাইলে উপরের দিককে পজিটিভ ও নিচের দিককে নেগেটিভ ধরতে পারেন। ইচ্ছা হলে উল্টোটাও ধরতে পারেন। তবে সাধারণত উপরের দিককেই পজিটিভ ধরা হয়। তারপর উপরে লেখা সূত্র ১, ২ ও ৩ ব্যবহার করে প্রবলেম সলভ করতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, সূত্র ১.১, ২.১ ও ৩.১ কোনোভাবেই ব্যবহার করা চলবে না। এগুলো আসলে ভুয়া সূত্র, যা কিনা আগের সূত্রগুলোরই একটা বিশেষ রূপ। সূত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সূত্রের মধ্যেই পজিটিভ দিকের জন্য ‘+’ আর নেগেটিভ দিকের জন্য ‘–’ চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ, আপনি যে দিককে পজিটিভ ধরেছেন, কোনো ভেক্টর রাশি যদি ঐদিকে হয়, তাহলে তাকে পজিটিভ ও কোনো ভেক্টর রাশি যদি তার বিপরীত দিকে হয়, তাহলে তাকে নেগেটিভ ধরতে হবে। চিহ্নের এই পরিবর্তন সূত্রেই করে নিতে হবে। যখন রাশিগুলোর ভ্যালু বা মান সূত্রে বসাবেন, তখন যেনো নেগেটিভ ভ্যালু বসাতে না হয়। এতে প্রবলেমগুলো অনেকটাই সহজ ও সিস্টেমেটিক উপায়ে সলভ করা যায়। তবে যে রাশির মান বের করতে হবে, তার জন্য চিহ্ন পরিবর্তনের দরকার নাই। বরং সূত্র থেকে রাশির মান চিহ্ন সহকারেই বের হবে। কথা হচ্ছে, এসব সূত্রের ক্ষেত্রে চিহ্ন এতো গুরুত্বপূর্ণ কেনো? কারণ প্রায় সবগুলো রাশিই (বেগ, ত্বরণ, সরণ ইত্যাদি) ভেক্টর। এখন, নেগেটিভ ভেক্টর দুইভাবে হতে পারে, মানে নেগেটিভ, অথবা দিকে নেগেটিভ। আমাদের ট্র্যাডিশনাল বইগুলোতে নেগেটিভ ভেক্টর বুঝাতে কোনো কোনো প্রবলেমের ক্ষেত্রে মান নেগেটিভ ধরে, আবার কোনো প্রবলেমের ক্ষেত্রে দিক নেগেটিভ ধরে। ফলে শিক্ষার্থীরা গুলিয়ে ফেলে। প্রায়ই তারা যে কাজটা করে, তা হলো মান ও দিক উভয়টাই নেগেটিভ ধরে ডাবল নেগেটিভের মাধ্যমে নেগেটিভ ভেক্টরকে ভুল করে পজিটিভ বানিয়ে দেয়। এখানে যে পদ্ধতিটা দেয়া হলো, সেখানে আসলে নেগেটিভ ভেক্টর বলতে পজিটিভ ভেক্টরের উল্টো দিকে ক্রিয়াশীল ভেক্টরকে বুঝানো হচ্ছে। স্কেলার রাশি (ভর, সময় ইত্যাদি) নিয়ে এই সমস্যা হয় না, কারণ স্কেলার রাশি সবসময়ই পজিটিভ। খুব সহজ একটা উদাহরণ দিয়ে শুরু করি।
সমস্যা ১: কোনো বস্তুকে ২০ মিটার উঁচু কোনো দালানের ছাদ হতে কত বেগে নিচের দিকে নিক্ষেপ করলে তা ১ সেকেন্ড পরে ভূপৃষ্ঠে পতিত হবে?
সমাধান ১.১: এই সমাধানের জন্য আমরা উপরের দিককে পজিটিভ ও নিচের দিককে নেগেটিভ ধরবো। এখানে, h = 20 m, t = 1 s, g = 9.8 ms-2, u = ?
আমাদের হাতে যে সূত্রটি আছে, তা হলো h = ut + ½ gt2। যেহেতু u (আদিবেগ) এর মান বের করতে হবে, কাজেই আমরা u এর চিহ্ন নিয়ে চিন্তা করবো না। t এর চিহ্ন সবসময়ই পজিটিভ। বাকি থাকে h আর g এর চিহ্ন। এখানে, h এর দিক উপর থেকে নিচের দিকে, কারণ বস্তুটির সরণ উপর থেকে নিচের দিকে হচ্ছে তথা তার শেষ অবস্থান আদি অবস্থানের সাপেক্ষে নিচে। আবার অভিকর্ষজ ত্বরণ g এর দিকও উপর থেকে নিচের দিকে, যেহেতু তা নিচের দিকে ক্রিয়াশীল। এখানে আমরা উপরের দিককে পজিটিভ ও নিচের দিককে নেগেটিভ ধরেছি, কাজেই h ও g এর চিহ্ন হবে নেগেটিভ। অতএব, আমাদের পরিবর্তিত সূত্রটা হবে:
–h = ut – ½ gt2; যা সলভ করলে u এর মান –15.1 ms-1 পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে যে, আমরা যেহেতু একবার সূত্রের মাঝেই চিহ্ন পরিবর্তন করে নিয়েছি, সেহেতু যখন মান বসাবো, তখন কখনোই নেগেটিভ মান বসানো যাবে না। সব চেয়ে ভালো হয় মান বসানোর সময় চিহ্ন নিয়ে কোনো চিন্তাই না করলে, কারণ রাশিগুলোর চিহ্ন কী হবে, তা আমরা অলরেডি ভেক্টরের ক্রিয়াদিক বিবেচনার মাধ্যমে ঠিক করে ফেলেছি। মোদ্দা কথা মানগুলো সবই পজিটিভ হবে। এখন কথা হচ্ছে, u এর মান নেগেটিভ হওয়ার তাত্পর্য কী? এটার মানে হচ্ছে, আমরা যে দিককে পজিটিভ ধরেছিলাম, এটা তার বিপরীত দিকে (কাজেই যে দিককে নেগেটিভ ধরেছিলাম, সেই দিকে) ক্রিয়া করে। যেহেতু আমরা উপরের দিককে পজিটিভ ধরেছিলাম, কাজেই u এর মান 15.1 ms-1 এবং এটা উপর থেকে নিচের দিকে ক্রিয়াশীল।
সমাধান ১.২: এই সমাধানের জন্য আমরা নিচের দিককে পজিটিভ ও উপরের দিককে নেগেটিভ ধরবো।
এখন নিশ্চয়ই বুঝা যাচ্ছে যে, উপরের সূত্রে h ও g উভয়ের মান হবে পজিটিভ, যেহেতু উভয়ই আমাদের ধরে নেয়া পজিটিভ দিক বরাবর ক্রিয়াশীল। কাজেই, সূত্রের রূপ হবে:
h = ut + ½ gt2; যা সলভ করলে u এর মান 15.1 ms-1 পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রেও মান বসানোর সময় শুধুই পজিটিভ মান বসাতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, সমাধান ১.১ এ রেজাল্ট আসলো নেগেটিভ, আর সমাধান ১.২ এ পজিটিভ, তাহলে কোনটা সঠিক? সচেতন পাঠকদের বুঝতে বাকি থাকার কথা না যে, দুটো উত্তরই সঠিক। আগেরবার উত্তর নেগেটিভ এসেছিলো, কারণ আমরা উপরের দিক পজিটিভ ধরেছিলাম, কাজেই নেগেটিভ উত্তর নিচের দিকে বুঝিয়েছিলো। আর এবার যেহেতু আমরা নিচের দিক পজিটিভ ধরেছি, কাজেই উত্তরও পজিটিভ এসেছে, যা আসলে উপর থেকে নিচের দিককেই নির্দেশ করছে। কাজেই এবারও u এর মান 15.1 ms-1 এবং এটা উপর থেকে নিচের দিকে ক্রিয়াশীল। কাজেই দেখে গেলো, আপনি কোন দিককে পজিটিভ বা নেগেটিভ ধরছেন, তার উপর সমস্যার সমাধান নির্ভর করে না। এ কারণেই দিক ধরার ব্যাপারটাকে আরবিট্রারি বা ইচ্ছাধীন বলেছিলাম।
চলেন, এবার তাহলে আরেকটু জটিল সমস্যার দিকে তাকানো যাক।
সমস্যা ২: কোন বস্তুকে ভূপৃষ্ঠ থেকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা হতে সোজা উপরের দিকে ১০ মি/সে বেগে ছুঁড়ে মারা হলো আর তা ৫ সেকেন্ড পরে ভূপৃষ্ঠে পতিত হলো। কত উচ্চতা হতে বস্তুটিকে ছুঁড়ে মারা হয়েছিলো?
সমাধান ২.১: এবারও আগের মতোই আমরা উপরের দিককে পজিটিভ ধরবো। এখানে, u = 10 ms-1, t = 5 s, g = 9.8 ms-2, h = ?
এখন, u উপরের দিকে বিধায় তা পজিটিভ এবং g নিচের দিকে বিধায় তা নেগেটিভ। কাজেই আমাদের সূত্রটা হবে:
h = ut – ½ gt2; যা সলভ করলে h = –72.5 m পাওয়া যাবে। যেহেতু h এর মান নেগেটিভ, কাজেই তার দিক আমাদের ধরা পজিটিভ দিকের বিপরীত দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে। আরেকটু ভালোভাবে বলতে গেলে, বস্তুটির নিচের দিকে সরণ হয়েছিলো ৭২.৫ মিটার। কাজেই, বস্তুটিকে ৭২.৫ মিটার উচ্চতা হতে ছুঁড়ে মারা হয়েছিলো।
সমাধান ২.২: এবার আমরা নিচের দিককে পজিটিভ ধরবো। এতে কিন্তু রাশিগুলোর মানের কোনো পরিবর্তন হবে না।
এক্ষেত্রে, u উপরের দিকে বিধায় তা নেগেটিভ এবং g নিচের দিকে বিধায় তা পজিটিভ। কাজেই সূত্রের রূপ হবে এরকম:
h = –ut + ½ gt2; যা সলভ করলে h = 72.5 m পাওয়া যাবে। এখানে h এর মান পজিটিভ এসেছে। যেহেতু আমরা নিচের দিক পজিটিভ ধরে নিয়েছিলাম, কাজেই এই পজিটিভ মান আসলে নিচের দিকে সরণ নির্দেশ করে, যা কিনা আগের ফলাফলের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ, যে দিককেই পজিটিভ ধরা হোক না কেনো, উত্তর একটাই, বস্তুটিকে ৭২.৫ মিটার উচ্চতা হতে ছুঁড়ে মারা হয়েছিলো।
আরেকটা উদাহরণ দিয়ে আজকের পর্ব শেষ করছি।
সমস্যা ৩: এক বালক একটা টেনিস বল দিয়ে খেলার এক পর্যায়ে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে তা ৫০ মি/সে বেগে ছুঁড়ে মারলো এবং তা ঠিক পাশেই অবস্থিত বাড়ির ছাদের মেঝেতে ১০ মি/সে বেগে আঘাত করলো। সে যখন বলটি ছুঁড়ে মারে, তখন তার হাত ভূমি থেকে ১ মিটার উচ্চতায় ছিলো। ছুঁড়ে মারার কত সময় পরে বলটি ছাদে পতিত হয়? বাড়িটার উচ্চতা কত?
সমাধানের পূর্বকথা: সমাধানে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় চিন্তা করা জরুরি। সমস্যা সমাধানে এই চিন্তা না করলেও চলবে, তবে সমস্যাটার ভিজুয়ালাইজেশনের জন্য এর দরকার আছে। আমরা জানি, উপরের দিকে নিক্ষিপ্ত বস্তু তার সর্বোচ্চ উচ্চতায় শুন্য বেগ প্রাপ্ত হয়। এখন কেউ যদি ভেবে বসেন যে, বলটি সর্বোচ্চ উচ্চতায় গিয়ে বাড়ির ছাদে পৌঁছাবে (চিত্র: ১), তাহলে ভুল হবে, কারণ আমাদের সমস্যায় দেয়া আছে, বলটি ১০ মি/সে বেগে ছাদের মেঝেতে আঘাত করবে (চিত্র: ২)। কাজেই, ব্যাপারটা আসলে চিত্র: ১ এর মতো না হয়ে চিত্র: ২ এর মতো হবে। এক্ষত্রে শেষ বেগ হবে ১০ মি/সে আর তার দিক হবে নিচের দিকে। এখানে একটা বিষয় লক্ষনীয়, তা হলো এই জাতীয় প্রবলেমের ক্ষেত্রে অনেকেই বস্তুর দুই দিকে সরণ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। কারণ, তা তার গতিপথের কিছু অংশ উপরের দিকে ও কিছু অংশ নিচের দিকে গতিশীল। তাই অনেকেই এসব প্রবলেম দুই ধাপে সলভ করার কথা চিন্তা করেন। কিন্তু তার আসলে দরকার নাই। কারণ, যখন আমরা সরণ হিসাব করবো, তখন সবসময় মনে রাখতে হবে যে এটা একটা ভেক্টর। কাজেই, ভেক্টরের দিক বের করার পদ্ধতি অনুযায়ী এর দিক হবে আদি অবস্থান থেকে শেষ অবস্থানের দিকে এবং এক্ষেত্রে বস্তুটি মাঝখানে অন্য কোনো দিকে ভ্রমণ করেছিলো কিনা, তা ইম্পর্ট্যান্ট না।
সমাধান ৩.১: এবারও আগে উপরের দিক পজিটিভ ধরলাম। এখানে, u = 50 ms-1, v = 10 ms-1, g = 9.8 ms-2, t = ?, h = ?
t বের করার জন্য আমরা ব্যবহার করবো v = u + gt সূত্র। এখানে, u উপরের দিকে, কাজেই তা পজিটিভ হবে। v ও g নিচের দিকে বিধায় তারা নেগেটিভ হবে। অতএব, সূত্রের পরিবর্তিত রূপ হবে -v = u – gt, যা সমাধান করলে t = 6.12 s পাওয়া যাবে।
h বের করার জন্য ব্যবহৃত সূত্র হচ্ছে, v2 = u2 + 2gh, যার পরিবর্তিত রূপ হবে v2 = u2 – 2gh (যেহেতু g নেগেটিভ)। এটা সমাধান করলে পাওয়া যাবে, h = 122.45 m। যেহেতু h এর মান পজিটিভ এসেছে, কাজেই h এর দিক হবে উপরের দিকে, যা আমাদের চিত্র: ২ এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত।
সমাধান ৩.২: এক্ষেত্রে নিচের দিক পজিটিভ ধরে নেই। কাজেই, u এর দিক উপরে বিধায় তা নেগেটিভ হবে। v ও g এর দিক নিচের দিকে বিধায় তারা পজিটিভ হবে। কাজেই, প্রথম সূত্রের পরিবর্তিত রূপ হবে v = -u + gt, যা সলভ করলে t = 6.12 s পাওয়া যাবে।
দ্বিতীয় সূত্রের মূল রূপের কোনো পরিবর্তন হবে না, কারণ আমাদের ধরে নেয়া দিক অনুযায়ী g পজিটিভ। কাজেই, ব্যবহৃত সূত্র হবে v2 = u2 + 2gh, যা সমাধান করলে পাওয়া যাবে, h = -122.45 m। যেহেতু h এর মান নেগেটিভ এসেছে, কাজেই তা আমাদের ধরে নেয়া পজিটিভ দিকের বিপরীত দিকে তথা উপরের দিকে ক্রিয়াশীল। অতএব, উভয় ক্ষেত্রেই প্রাপ্ত ফলাফল হলো, বলটা ছুঁড়ে মারার ৬.১২ সেকেন্ড পরে ছাদের মেঝেতে পড়ে এবং বাড়ির উচ্চতা ১২৩.৪৫ মিটার (যেহেতু বলটা ভূমির ১ মিটার উচ্চতা হতে ছুঁড়ে মারা হয়েছিলো)।
এখানে একটা মজার ব্যাপার লক্ষণীয় যে, যখন কোনো প্রবলেম সলভ করার জন্য v2 = u2 + 2gh সূত্র ব্যবহার করা হয়, তখন u ও v এর চিহ্ন নিয়ে আসলে চিন্তা করার দরকার নাই, কারণ তাদের চিহ্ন যাই হোক না কেনো, u2 ও v2 এর মানের উপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

ভেক্টরের সূত্রসমূহ



     
আজ আলোচনা করব পদার্থবিজ্ঞানের দ্বিতীয় অধ্যায় ভেক্টরের সুত্র নিয়ে ।
নিচে সূত্রগুলোর সমীকরণ, প্রতীক এবং একক দেওয়া হলঃ


  http://s13.postimg.org/glbbemuyv/rsz_edpdbdorg.jpg