Powered by Blogger.

Showing posts with label বাংলা. Show all posts
Showing posts with label বাংলা. Show all posts

বাংলা নিয়ে স্পেশাল পোস্টঃ সংক্ষিপ্ত কবি পরিচিতি (কবিতাংশ)

 

কবিদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ


কবির নাম ও
কবিতা
সাহিত্যে অবদান
কাব্যগ্রন্থসমূহ
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
(১৮২৪-১৮৭৩)
বঙ্গভাষা
জন্ম- যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে
১৩-১৪টি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন
প্রথম সার্থক বাংলা মহাকাব্য
অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন
প্রথম সার্থক বাংলা নাটক রচনা
প্রথম সার্থক বাংলা প্রহসন রচনা
প্রথম বাংলা সনেট রচয়িতা
কাব্যগ্রন্থ-
মেঘনাদবধ কাব্য (মহাকাব্য)
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
বীরাঙ্গনা
ব্রজাঙ্গনা
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
নাটক-
শর্মিষ্ঠা
পদ্মাবতী
কৃষ্ণকুমারী
প্রহসন-
একেই কি বলে সভ্যতা
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(৭ মে ১৮৬১-৭ আগস্ট ১৯৪১)
(২৫ বৈশাখ ১২৬৮- ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮)
সোনার তরী
জন্ম- কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে
১ম প্রকাশিত কাব্য- বনফুল (কবির ১৫ বছর বয়সে প্রকাশিত)
নোবেল প্রাপ্তি- ১৯১৩, গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদের জন্য
বিশ্বের অন্যতম সেরা রোম্যান্টিক কবি
কাব্যগ্রন্থ-
সোনার তরী
চিত্রা
বলাকা
মানসী
কল্পনা
গীতাঞ্জলি
উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ- (গদ্য অংশে)
কাজী নজরুল ইসলাম
(২৫ মে ১৮৯৯-২৯ আগস্ট ১৯৭৬)
(জন্ম : ১১ জৈষ্ঠ্য ১৩০৬ বঙ্গাব্দ)
জীবন বন্দনা
জন্ম- (বর্তমান ভারতের) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে
ডাকনাম- দুখু মিয়া, তারাখ্যাপা
উপাধি- বিদ্রোহী কবি
স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবি
কবর- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে (মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই- তাঁর রচিত গান অনুসারে)
কাব্যগ্রন্থ-
অগ্নিবীণা
বিষের বাঁশি
ছায়ানট
প্রলয়-শিখা
চক্রবাক
সিন্ধু-হিন্দোল
জীবনানন্দ দাশ
(১৮৯৯-১৯৫৪)
পেঁচা
পঞ্চপাণ্ডবের* অন্যতম কবি
তাঁর মা- কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন বিখ্যাত কবি
কবিতায় গ্রামবাংলার নিসর্গের অসামান্য ছবি এঁকেছেন
রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতাকে বলেছেন- চিত্ররূপময় কবিতা
বুদ্ধদেব বসু তাঁকে বলেছেন- নির্জনতম কবি
কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয় (অনেকের মতে তিনি আত্মহত্যা করেন)
রূপসী বাংলা
ধূসর পাণ্ডুলিপি
বনলতা সেন
সাতটি তারার তিমির
বেলা অবেলা কালবেলা
অমিয় চক্রবর্তী
(১৯০১-১৯৮৬)
বাংলাদেশ
পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম কবি*
রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন
রবীন্দ্র-সান্নিধ্যে থেকেও রবীন্দ্র-প্রভাব বর্জিত
খসড়া (প্রথম কাব্য)
একমুঠো
মাটির দেয়াল
অভিজ্ঞানবসন্ত
পারাপার (পটভূমিতে ৪ মহাদেশ)
পালাবদল (পটভূমিতে ৪ মহাদেশ)
পুষ্পিত ইমেজ
অমরাবতী
ঘরে ফেরার দিন
অনিঃশেষ
জসীমউদদীন
(১৯০৩-১৯৭৬)
কবর
উপাধি/পরিচিতি- পল্লীকবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তাঁর কবর কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলেনে অন্তর্ভুক্ত হয় (প্রবেশিকা= এসএসসি/এন্ট্রান্স পরীক্ষা)
নকশী কাঁথার মাঠ
সোজন বাদিয়ার ঘাট
বালুচর
ধানখেত
রঙিলা নায়ের মাঝি
সুফিয়া কামাল
(১৯১১-১৯৯৯)
তাহারেই পড়ে মনে
বিশিষ্ট মহিলা কবি ও নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ
স্বামী- সৈয়দ নেহাল হোসেন
সাঁঝের মায়া
মায়া কাজল
কেয়ার কাঁটা
উদাত্ত পৃথিবী
আহসান হাবীব
(১৯১৭-১৯৮৫)
ধন্যবাদ

রাত্রিশেষ (প্রথম কাব্যগ্রন্থ)
ছায়াহরিণ
সারাদুপুর
আশায় বসতি
মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
দুই হাতে দুই আদিম পাথর
বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
ফররুখ আহমদ
(১৯১৮-১৯৭৪)
পাঞ্জেরী
ইসলামী রেনেসাঁসের কবি
কাব্যগ্রন্থ-
সাত সাগরের মাঝি (প্রথম কাব্য)
সিরাজাম মুনীরা
কাব্যনাট্য- নৌফেল ও হাতেম
সনেটসংকলন- মুহূর্তের কবিতা
কাহিনীকাব্য- হাতেম তায়ী
সৈয়দ আলী আহসান
(১৯২২-বর্তমান)
আমার পূর্ব বাংলা
জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন
বাংলা একাডেমীর পরিচালক ছিলেন

কাব্যগ্রন্থ-
অনেক আকাশ
একক সন্ধ্যায় বসন্ত
সহসা সচকিত
আমার প্রতিদিনের শব্দ
সমুদ্রেই যা্বো
গবেষণা ও প্রবন্ধ-
কবি মধুসূদন
রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা
কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
সতত স্বাগত
শিল্পবোধ ও শিল্পচৈতন্য
অনুবাদ- হুইটম্যানের কবিতা
সুকান্ত ভট্টাচার্য
(১৯২৬-১৯৪৭)
আঠারো বছর বয়স
রবীন্দ্র-নজরুলোত্তর যুগের বিদ্রোহী তরুণ কবি
সাম্যবাদী কবি
মাত্র ২১ বছর বয়সে কবির অকালমৃত্যু হয়
কাব্যগ্রন্থ-
ছাড়পত্র
ঘুম নেই
পূর্বাভাস
অন্যান্য রচনা-
মিঠেকড়া
অভিযান
হরতাল
শামসুর রাহমান
(১৯২৯-২০০?)
একটি ফটোগ্রাফ
পঞ্চপাণ্ডব* পরবর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি
বাংলাদেশের প্রধান কবি
এক ফোঁটা কেমন অনল
প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
রৌদ্র করোটিতে
বিধ্বস্ত নীলিমা
নিজ বাসভূমে
বন্দী শিবির থেকে
দুঃসময়ের মুখোমুখি
ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা
বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে
উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ
বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়
পঞ্চপাণ্ডব*- রবীন্দ্র পরবর্তী যুগের (ত্রিশের দশকের) ৫ জন প্রধান কবিকে একত্রে পঞ্চপাণ্ডব বলা হয়; তাঁরা হলেন- বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী ও সুধীন্দ্রনাথ দত্ত


কবি
কবিতার নাম
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
হায় আমি কি করিলাম
নবীনচন্দ্র সেন
মেঘনা
কায়কোবাদ
নিবেদন
অক্ষয়কুমার বড়াল
মানব বন্দনা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
শিশু
যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
হাটে
শাহাদাৎ হোসেন
জাহাঁগীরের আত্মসমর্পণ
গোলাম মোস্তফা
ঈদ উৎসব
আবদুল কাদির
মুক্তি
সূফী মোতাহার হোসেন
ঝড়
আবুল হোসেন
বাজার দর
আল মাহমুদ
খড়ের গম্বুজ
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
মানুষের মত কেউ নয়
রফিক আজাদ
আমার কৈশোর
আবুল হাসান
উচ্চারণগুলি শোকের

বাংলা নিয়ে স্পেশাল পোস্টঃ সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি (গদ্যাংশ)

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতি

লেখকের নাম, জন্ম ও মৃত্যুসাল ও গল্প/রচনা
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বিভিন্ন রচনা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
(১৮২০-১৮৯১)
শকুন্তলা
উপাধি- বিদ্যাসাগর (সংস্কৃত কলেজ প্রদত্ত)
আসল নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
শিল্পসম্মত গদ্যরীতির জনক
প্রমিত চলিত ভাষা প্রণয়ন
বিরাম চিহ্নের ব্যবহার
বেতাল পঞ্চবিংশতি
শকুন্তলা
সীতার বনবাস
ভ্রান্তিবিলাস
শিশুপাঠ্য- বর্ণ পরিচয়
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(১৮৩৮-১৮৯৪)
কমলাকান্তের জবানবন্দী
উপাধি- সাহিত্য সম্রাট
প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস রচনা
বঙ্গদর্শন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক
যুগন্ধর সাহিত্য স্রষ্টা
উপন্যাস-
দুর্গেশনন্দিনী
কপালকুণ্ডলা
বিষবৃক্ষ
কৃষ্ণকান্তের উইল
রাজসিংহ
প্রবন্ধ-
লোকরহস্য
কমলাকান্তের দপ্তর
বিবিধ প্রবন্ধ
সাম্য
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(৭ মে ১৮৬১-৭ আগস্ট ১৯৪১)
(২৫ বৈশাখ ১২৬৮- ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮)
হৈমন্তী
ছদ্মনাম- ভানুসিংহ
বিশ্বের অন্যতম ছোট গল্পকার
নোবেল পান ১৯১৩ সালে, গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ Gitanjoli : Song Offerings-এর জন্য; ইংরেজি অনুবাদের অধিকাংশই বাংলা গীতাঞ্জলি কাব্যের কবিতা হলেও আরো কয়েকটি কাব্যের কবিতা স্থান পেয়েছিল; বিভিন্ন কাব্য থেকে নেয়া কবিতার সংখ্যা-
গীতাঞ্জলি- ৫৩টি
গীতিমাল্য- ১৬টি
নৈবেদ্য- ১৫টি
খেয়া- ১১টি
শিশু- ৩টি
কল্পনা- ১টি
চৈতালি- ১টি
উৎসর্গ- ১টি
স্মরণ- ১টি
অচলায়তন- ১টি
গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদে উৎসাহ দিয়েছিলেন বিখ্যাত ইংরেজ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস
শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী-র প্রতিষ্ঠাতা
কবিতা- (কবিতা অংশ)
উপন্যাস-
নৌকাডুবি
গোরা
ঘরে বাইরে
চার অধ্যায়
শেষের কবিতা
নাটক-
রক্তকরবী
রাজা
চিত্রাঙ্গদা
ডাকঘর
চিরকুমার সভা
বিসর্জন
প্রবন্ধ-
বিচিত্র প্রবন্ধ
কালান্তর
পঞ্চভূত
সভ্যতার সংকট
অন্যান্য-
বাংলা ভাষা পরিচয়
লোক সাহিত্য
প্রমথ চৌধুরী
(১৮৬৮-১৯৪৬)
সাহিত্যে খেলা
ছদ্মনাম- বীরবল
প্রমিত চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক
সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক
চার ইয়ারী কথা
বীরবলের হালখাতা
রায়তের কথা
তেল-নুন-লকড়ি
সনেট পঞ্চাশৎ (কাব্যগ্রন্থ)
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
(১৮৭৬-১৯৩৮)
বিলাসী
নারীর প্রতিকৃতি অঙ্কনে অসামান্য দক্ষতা
২৪ বছর বয়সে সন্ন্যাসী হয়ে গৃহত্যাগ করেন
জীবিকার তাগিদে বর্মা (বর্তমান মায়ানমার) গিয়ে কিছুকাল বাস করেছিলেন
প্রথম প্রকাশিত রচনা- মন্দির (গল্প)
মন্দির গল্পটি কুন্তলীন পুরস্কার পায়

দেবদাস
পল্লীসমাজ
চরিত্রহীন
শ্রীকান্ত (৪ খণ্ড)
গৃহদাহ
দেনাপাওনা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
(১৮৮০-১৯৩২)
অর্ধাঙ্গী
বাঙালি মুসলিম সমাজে নারী জাগরণের পথিকৃৎ
মুসলমান মেয়েদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন
লিখতেন- মিসেস আর. এস. হোসেন নামে
পদ্মরাগ
অবরোধবাসিনী
মতিচূর
সুলতানার স্বপ্ন
Sultanas Dream
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
বৈকালী
তাঁর পরিকল্পিত উপন্যাস ত্রয়ীর (পথের পাঁচালি, অপরাজিত ও কাজল) শেষ উপন্যাসটি (কাজল) লেখেন তাঁর পুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
উপন্যাস ত্রয়ী নিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করেন- সত্যজিৎ রায়
পথের পাঁচালি
অপরাজিত
আরণ্যক
ইছামতী
কাজী নজরুল ইসলাম
(২৫ মে ১৮৯৯-২৯ আগস্ট ১৯৭৬)
(জন্ম : ১১ জৈষ্ঠ্য ১৩০৬ বঙ্গাব্দ)
যৌবনের গান
ডাকনাম- দুখু মিয়া, তারাখ্যাপা
ছোটবেলায় লেটো গানের দলে যোগ দেন
১৭ বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন (প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন)
৪৩ বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়
স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবি ঘোষণা করা হয়
কবিতা- (কবিতা অংশ)
গল্পগ্রন্থ-
ব্যথার দান
রিক্তের বেদন
শিউলিমালা
উপন্যাস- মৃত্যু-ক্ষুধা
নাটক-
আলেয়া
ঝিলিমিলি
প্রবন্ধগ্রন্থ-
যুগ-বাণী
দুর্দিনের যাত্রী
রুদ্র-মঙ্গল
রাজবন্দীর জবানবন্দী
সৈয়দ মুজতবা আলী
বই কেনা
পড়াশোনা করেন- শান্তিনিকেতনে, জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে ও কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে
অধ্যাপনা করেন- কাবুলে
দেশে বিদেশে (ভ্রমণকাহিনী)
রম্যরচনা-
চাচা কাহিনী
পঞ্চতন্ত্র
ময়ুরকণ্ঠী
দ্বন্দ্বমধুর
ধূপছায়া
চতুরঙ্গ
উপন্যাস-
অবিশ্বাস্য
শবনম
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
(১৯০৮-১৯৫৬)
পদ্মানদীর মাঝি
আসল নাম- প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ডাক নাম- মানিক
প্রথম রচনা- অতসী মামী
উপন্যাস-
পদ্মানদীর মাঝি
পুতুল নাচের ইতিকথা
দিবারাত্রির কাব্য
ইতিকথার পরের কথা
চিহ্ন
গল্পগ্রন্থ-
অতসী মামী
প্রাগৈতিহাসিক
আজ কাল পরশুর গল্প
ছোট বকুলপুরের যাত্রী
আবু জাফর শামসুদ্দীন
(১৯১৯-১৯৮৮)
কলিমদ্দি দফাদার

উপন্যাস-
ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
পদ্মা মেঘনা যমুনা
সংকর সংকীর্তন
প্রপঞ্চ
দেয়াল
গল্পগ্রন্থ-
আবুজাফর শামসুদ্দীনের শ্রেষ্ঠ গল্প
শেষ রাত্রির তারা
এক জোড়া প্যান্ট ও অন্যান্য
রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা
অন্যান্য- আত্মস্মৃতি
শওকত ওসমান
(১৯১৭-১৯৯৮)
সৌদামিনী মালো
তাঁর কালোত্তীর্ণ উপন্যাস- ক্রীতদাসের হাসি
উপন্যাস- বনি আদম
চৌরসন্ধি
জাহান্নাম হইতে বিদায়
রাজা উপাখ্যান
নেকড়ে অরণ্য
ক্রীতদাসের হাসি
পতঙ্গ পিঞ্জর
ছোটগল্পগ্রন্থ-
পিঁজরাপোল
প্রস্তর ফলক
জন্ম যদি তব বঙ্গে
নাটক-
আমলার মামলা
তস্কর ও লস্কর
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
(১৯২২-১৯৭১)
একটি তুলসী গাছের কাহিনী
লালসালু (উপন্যাস)
সমাজসচেতন সাহিত্যশিল্পী
রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে- ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও মানব মনের অন্তর্দ্বন্দ্ব
উপন্যাস-
লালসালু
কাঁদো নদী কাঁদো
চাঁদের অমাবস্যা
গল্পগ্রন্থ-
নয়নচারা
দুই তীর
নাটক-
বহিপীর
তরঙ্গভঙ্গ
সুড়ঙ্গ
মুনীর চৌধুরী
মানুষ (নাটক)
রক্তাক্ত প্রাণ্তর (নাটক)
(১৯২৫-১৯৭১)
বাংলাদেশের আধুনিক নাটক ও নাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ
নাটক-
রক্তাক্ত প্রাণ্তর
চিঠি
দণ্ডকারণ্য
পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
অনুবাদ নাটক-
কেউ কিছু বলতে পারে না
রূপার কৌটা
মুখরা রমণী বশীকরণ
প্রবন্ধ-
মীর-মানস
তুলনামূলক সমালোচনা
বাংলা গদ্যরীতি
জহির রায়হান
(১৯৩৩-১৯৭২)
একুশের গল্প
আসল নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
জীবনমুখী সমাজসচেতন কথাসাহিত্যিক
বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার

উপন্যাস-
হাজার বছর ধরে
আরেক ফাল্গুন
বরফ গলা নদী
আর কতদিন
গল্প-
জহির রায়হানের গল্প সংগ্রহ
চলচ্চিত্র-
জীবন থেকে নেয়া
ডকুমেন্টারি-
স্টপ জেনোসাইড
লেট দেয়ার বি লাইট


পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য লেখক ও তাঁদের রচনা :
লেখকের নাম
রচনা
মীর মশাররফ হোসেন
কারবালা প্রান্তরে
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
শিক্ষা
মোজাম্মেল হক
শাহনামা
দীনেশচন্দ্র সেন
পল্লীগীতিকায় প্রাচীন চিত্রপট
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সুন্দর অসুন্দর
এস. ওয়াজেদ আলী
ধর্মের মহিমা
কাজী আবদুল ওদুদ
সভ্যতা
কাজী মোতাহার হোসেন
অসীমের সন্ধানে
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
জীবন ও বৃক্ষ
আবুল ফজল
সভ্যতার সংকট
মুহম্মদ আবদুল হাই
ভাষার কথা
শাহেদ আলী
একই সমতলে
আব্দুল্লাহ আল -মুতী
পরিবেশের ভারসাম্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন

সমাস কি ? সাথে থাকছে বোর্ড বইয়ে ব্যবহৃত গুরুত্তপূর্ণ সমাসের ছক |


সমাস: সমাস শব্দের অর্থ মিলন। অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের মিলিত হয়ে একটি নতুন শব্দ তৈরির ব্যাকরণ সম্মত প্রক্রিয়াকেই বলা হয় সমাস। মূলত, সমাসে একটি বাক্যাংশ একটি শব্দে পরিণত হয়। সমাসের রীতি বাংলায় এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে।

বাক্যে শব্দের ব্যবহার কমানোর উদ্দেশ্যে সমাস ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য, সমাস অর্থ সম্বন্ধপূর্ণ একাধিক শব্দের মিলন। আর সন্ধি পাশাপাশি অবস্থিত দুইটি ধ্বনির মিলন।

সমাসের জন্য কয়েকটি সংজ্ঞা/ টার্মস জানা খুবই জরুরি। এগুলো হলো-

ব্যাসবাক্য: যে বাক্যাংশ থেকে সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য। একে সমাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়।

সমস্ত পদ: ব্যাসবাক্য থেকে সমাসের মাধ্যমে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় সমস্ত পদ।

সমস্যমান পদ: ব্যাসবাক্যের যে সব শব্দ সমস্ত পদে অন্তর্গত থাকে, সমস্ত পদের সেই সব শব্দকে সমস্যমান পদ বলে।

পূর্বপদ : সমস্ত পদের প্রথম অংশ/ শব্দকে পূর্বপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের প্রথম সমস্যমান পদই পূর্বপদ।

পরপদ/ উত্তরপদ: সমস্ত পদের শেষ অংশ/ শব্দকে পরপদ/ উত্তরপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের শেষ সমস্যমান পদই পরপদ।

যেমন, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন
এখানে ব্যাসবাক্য হলো- ‘সিংহ চিহ্নিত আসন’। আর সমস্ত পদ হলো ‘সিংহাসন’। সমস্যমান পদ হলো ‘সিংহ’ আর ‘আসন’। এদের মধ্যে ‘সিংহ’ পূর্বপদ, আর ‘আসন’ পরপদ।

আবার, আমিষের অভাব = নিরামিষ
এখানে, পূর্বপদ ‘নিঃ’ বা অভাব। আর পরপদ হলো ‘আমিষ’।
উলেলখ্য, একই সমস্ত পদ কয়েকভাবে ভেঙে কয়েকটি ব্যাসবাক্য তৈরি করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক ব্যাসবাক্যও কয়েকটি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাসবাক্য অনুযায়ী সেটি কোন সমাস তা নির্ণয় করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ব্যাসবাক্যের সঙ্গে সমস্ত পদের অর্থসঙ্গতি যেন ঠিক থাকে। যেমন, ‘বিপদে আপন্ন = বিপদাপন্ন’, এই সমাসটি এভাবে ভাঙলে তা ভুল হবে। এটা করতে হবে ‘বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন’।

প্রকারভেদ: সমাস প্রধানত ৬ প্রকার- দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব।

তবে অনেকেই দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভূক্ত করে থাকেন। আবার অনেকে কর্মধারয় সমাসকে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভূক্ত করে থাকেন। সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য বিবেচনা করে তারা এই মত দিয়ে থাকেন। সমস্যমান পদ বা পূর্বপদ-পরপদের অর্থ প্রাধান্য বিবেচনা করলে মূলত সমাস ৪ প্রকার- দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি ও অব্যয়ীভাব

এছাড়াও কিছু অপ্রধান সমাসও রয়েছে। যেমন- প্রাদি, নিত্য, অলুক, প্রভৃতি।

অর্থ প্রাধান্যের ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ :

পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য
পরপদের অর্থ প্রাধান্য
সমাস
আছে
আছে
দ্বন্দ্ব
নেই
আছে
কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু
আছে
নেই
অব্যয়ীভাব
নেই
নেই
বহুব্রীহি

নিচে বিভিন্ন সমাসের বর্ণনা দেয়া হলো।

দ্বন্দ্ব সমাস

যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ- উভয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। এই সমাসে ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ স্থাপনে ও, এবং, আর- এই তিনটি অব্যয় ব্যবহৃত হয়।

যেমন- মা ও বাপ = মা-বাপ। এখানে পূর্বপদ ‘মা’ ও পরপদ ‘বাপ’। ব্যাসবাক্যে ‘মা’ ও ‘বাপ’ দুইজনকেই সমান প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, এবং দুজনকেই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, পূর্বপদ ও পরপদ, উভয়েরই অর্থের প্রাধান্য রক্ষিত হয়েছে। তাই এটি দ্বন্দ্ব সমাস।

কর্মধারয় সমাস

কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। মূলত, এই সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদ পূর্বপদ ও বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদ পরপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর ব্যাসবাক্যটিতে ঐ বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদটি সম্পর্কে কিছু বলা হয়। অর্থাৎ পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। এখানে, পূর্বপদ ‘নীল’ বিশেষণ ও পরপদ ‘পদ্ম’ বিশেষ্য। ব্যাসবাক্যে ‘পদ্ম’ সম্পর্কে বলা হয়েছে পদ্মটি ‘নীল’ রঙের। অর্থাৎ, ‘পদ্ম’ বা পরপদের অর্থই এখানে প্রধান, পরপদ ছাড়া পূর্বপদের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। তাই এটি কর্মধারয় সমাস।

কর্মধারয় সমাসের কয়েকটি বিশেষ নিয়ম-

  • দুইটি বিশেষণ একই বিশেষ্য বোঝালে সেটি কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর। এখানে পরবর্তী বিশেষ্যটি অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে এটি দ্বন্দ্ব সমাস হবে না।
  • দুইটি বিশেষ্য একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে সেটিও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যিনি জজ তিনি সাহেব = জজসাহেব। একই কারণে এটি দ্বন্দ্ব না কর্মধারয় হবে।
  • কার্যে পরপম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ বা ক্রিয়াবাচক বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা। এখানে ‘মোছা’ কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  • পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে তা পুরুষবাচক হয়ে যাবে। যেমন, সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা
  • বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে মহা হয়। মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান
  • পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’, ‘কৎ’ হয়। যেমন, কু যে অর্থ = কদর্থ।
  • পরপদে ‘রাজা’ থাকলে ‘রাজ’ হয়। যেমন, মহান যে রাজা = মহারাজ।
  • বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষ্য আগে এসে বিশেষণ পরে চলে যায়। যেমন, সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ।

কর্মধারয় সমাস মূলত ৪ প্রকার-
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:  যে কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদগুলো লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন, ‘স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ’। এখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ ‘রক্ষার্থে’ লোপ পেয়েছে। পূর্বপদ ‘স্মৃতি’ এখানে বিশেষণ ভাব বোঝাচ্ছে। আর ‘সৌধ’ বিশেষ্য। এটিরই অর্থ প্রধান। সুতরাং এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।

(উপমান ও উপমিত কর্মধারয় সমাস আলাদা করে চেনার আগে কতোগুলো সংজ্ঞা/ টার্মস জানা জরুরি। সেগুলো হলো- উপমান, উপমেয় ও সাধারণ ধর্ম। কোন ব্যক্তি বা বস্ত্তকে অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্ত্তর সঙ্গে তুলনা করা হলে যাকে তুলনা করা হলো, তাকে বলা হয় উপমেয়। আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তাকে বলে উপমান। আর উপমেয় আর উপমানের যে গুণটি নিয়ে তাদের তুলনা করা হয়, সেই গুণটিকে বলা হয় সাধারণ ধর্ম। যেমন, ‘অরুণের ন্যায় রাঙা প্রভাত’। এখানে ‘প্রভাত’কে ‘অরুণ’র মতো ‘রাঙা’ বলে তুলনা করা হয়েছে। সুতরাং, এখানে ‘প্রভাত’ উপমেয়। উপমান হলো ‘অরুণ’। আর প্রভাত আর অরুণের সাধারণ ধর্ম হলো ‘রাঙা’।)

উপমান কর্মধারয় সমাস: সাধারণ ধর্মবাচক পদের সঙ্গে উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। অর্থাৎ, উপমান ও উপমেয় কর্মধারয়ের মধ্যে যেটিতে সাধারণ ধর্মবাচক পদ থাকবে, সেটিই উপমান কর্মধারয়। যেমন, তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র। এখানে ‘তুষার’র সঙ্গে কোন ব্যক্তি বা বস্ত্তকে তুলনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ এটি উপমান। আর সাধারণ ধর্ম হলো ‘শুভ্র’। উপমেয় এখানে নেই। সুতরাং, এটি উপমান কর্মধারয় সমাস।

উপমিত কর্মধারয় সমাস: উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে সাধারণ ধর্ম উল্লেখ করা থাকে না। অর্থাৎ, উপমান ও উপমিত কর্মধারয়ের মধ্যে যেটিতে সাধারণ ধর্মবাচক পদ থাকবে না, সেটিই উপমিত কর্মধারয় সমাস। যেমন, ‘পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ’। এখানে ‘পুরুষ’কে ‘সিংহ’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে ‘পুরুষ’ উপমেয় আর ‘সিংহ’ উপমান। সাধারণ ধর্মের উল্লেখ নেই। সুতরাং, এটি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

রূপক কর্মধারয় সমাস: উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এটির ব্যাসবাক্যে উপমেয় ও উপমান পদের মাঝে ‘রূপ’ শব্দটি অথবা ‘ই’ শব্দাংশটি ব্যবহৃত হয়। যেমন, ‘মন রূপ মাঝি = মনমাঝি’। এখানে ‘মন’ উপমেয় ও ‘মাঝি’ উপমান। কিন্তু এখানে তাদের কোন নির্দিষ্ট গুণের তুলনা করা হয়নি। মনকেই মাঝি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।


তৎপুরুষ সমাস

যে সমাসে পূর্বপদের শেষের বিভক্তি লোপ পায়, এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। পূর্বপদের যে বিভক্তি লোপ পায়, সেই বিভক্তি অনুযায়ী তৎপুরুষ সমাসের নামকরণ করা হয়। তবে মাঝে মাঝে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে অবিকৃত থেকে যায়। তখন সেটাকে বলা হয় অলুক তৎপুরুষ। (অলুক মানে লোপ না পাওয়া, অ-লোপ)।

যেমন, দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত। এখানে পূর্বপদ ‘দুঃখ’র সঙ্গে থাকা দ্বিতীয়া বিভক্তি ‘কে’ লোপ পেয়েছে। আবার পরপদ ‘প্রাপ্ত’র অর্থই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুঃখ প্রাপ্ত হয়েছে বলেই নতুন শব্দের প্রয়োজন হয়েছে, যার জন্য বাক্যাংশটিকে সমাস করে নতুন শব্দ বানানো হয়েছে। অর্থাৎ, এখানে পূর্বপদের শেষের বিভক্তি লোপ পেয়েছে, এবং পরপদের অর্থের প্রাধান্য রক্ষিত হয়েছে। তাই এটি তৎপুরুষ সমাস।

বহুব্রীহি সমাস

যে  সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটিরই অর্থের প্রাধান্য রক্ষিত হয় না, বরং সমস্ত পদ তৃতীয় কোন শব্দকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন, মহান আত্মা যার = মহাত্মা। এখানে পূর্বপদ ‘মহান’ (মহা) ও পরপদ ‘আত্মা’। কিন্তু সমস্ত পদ ‘মহাত্মা’ দ্বারা মহান বা আত্মা কোনটাকেই না বুঝিয়ে এমন একজনকে বোঝাচ্ছে, যিনি মহান, যার আত্মা বা হৃদয় মহৎ। আবার, মহাত্মা বলতে মহাত্মা গান্ধীকেও বোঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু কোন অর্থেই পূর্বপদ বা পরপদকে বোঝানো হচ্ছে না। অর্থাৎ, পূর্বপদ বা পরপদ, কোনটারই অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে না। সুতরাং, এটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

(উল্লেখ্য, বহুব্রীহি সমাস, বিশেষ করে কিছু ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস ও উপপদ তৎপুরুষ সমাসের সমস্ত পদ প্রায় একই ধরনের হয়। ফলে এদের সমস্ত পদ দেখে আলাদা করে চেনার তেমন কোন উপায় নেই। এগুলোর সমাস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তাই একই ব্যাসবাক্য ও সমাস নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর পরীক্ষায় মূলত এগুলো উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ হিসেবেই আসে।)

দ্বিগু সমাস

দ্বিগু সমাসের সঙ্গে কর্মধারয় সমাসের বেশ মিল রয়েছে। এজন্য একে অনেকেই কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভূক্ত করে থাকেন। দ্বিগু সমাসেও পরপদের অর্থই প্রধান। এবং এই সমাসেও বিশেষণ পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের সমাস হয়। তবে এখানে বিশেষণ পদটি সর্বদাই সংখ্যাবাচক হয়, এবং সমাস হয় সমাহার বা মিলন অর্থে।

অর্থাৎ, সমাহার বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক বিশেষণের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। যেমন, ‘অষ্ট ধাতুর সমাহার = অষ্টধাতু’। এখানে পূর্বপদ ‘অষ্ট’ একটি সংখ্যাবাচক বিশেষণ। আর পরপদ ‘ধাতু’ বিশেষ্য। অষ্ট ধাতুর মিলন বা সমাহার অর্থে সমাস হয়ে ‘অষ্টধাতু’ সমস্ত পদটি তৈরি হয়েছে যাতে ‘ধাতু’ সম্পর্কে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, পরপদের অর্থ প্রধান হিসেবে দেখা দিয়েছে। সুতরাং, এটি দ্বিগু সমাস।

অব্যয়ীভাব সমাস

সমাসের পূর্বপদ হিসেবে যদি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়, এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে সেই সমাসকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস। যেমন, ‘মরণ পর্যন্ত = আমরণ’। এখানে পূর্বপদ হিসেবে পর্যন্ত অর্থে ‘আ’ উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে। আর পরপদ ‘মরণ’। কিন্তু এখানে সমস্ত পদটিকে নতুন অর্থ দিয়েছে ‘আ’ উপসর্গটি। অর্থাৎ, এখানে ‘আ’ উপসর্গ বা অব্যয় বা পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পেয়েছে। তাই এটি অব্যয়ীভাব সমাস। (উপসর্গ এক ধরনের অব্যয়সূচক শব্দাংশ। উপসর্গ বচন বা লিঙ্গ ভেদে পরিবর্তিত হয় না কিংবা বাক্যের অন্য কোন পদের পরিবর্তনেও এর কোন পরিবর্তন হয় না। এরকম আরেকটি অব্যয়সূচক শব্দাংশ হলো অনুসর্গ।)

প্রাদি সমাস

প্র, প্রতি, অনু, পরি, ইত্যাদি অব্যয় বা উপসর্গের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্য বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যর সমাস হলে তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমন, প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন। এখানে বচন সমস্যমান পদটি একটি বিশেষ্য, যার মূল (ধাতু)বচ ধাতু বা কৃৎ প্রত্যয়। ‘প্র’ অব্যয়ের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্য ‘বচন’র সমাস হয়ে সমস্ত পদ ‘প্রবচন’ শব্দটি তৈরি হয়েছে। সুতরাং, এটি প্রাদি সমাস।

নিত্য সমাস

যে সমাসের সমস্ত পদই ব্যাসবাক্যের কাজ করে, আলাদা করে ব্যাসবাক্য তৈরি করতে হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন, অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। এখানে ‘অন্য গ্রাম’ আর ‘গ্রামান্তর’, এই বাক্যাংশ ও শব্দটির মধ্যে তেমন বিশেষকোন পার্থক্য নেই। কেবল ‘অন্য’ পদের বদলে ‘অন্তর’ পদটি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এটি নিত্য সমাস।

ভাষা অনুশীলন; ১ম পত্র

শকুন্তলা
শব্দ
ব্যাসবাক্য
সমাসের নাম
বনমধ্যে
বনের মধ্যে
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
প্রাণভয়
প্রাণ যাওয়ার ভয়
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
রথারোহণ
রথে আরোহণ
সপ্তমী তৎপুরুষ
রথচালন
রথকে চালন
দ্বিতীয় তৎপুরুষ
শরনিক্ষেপ
শরকে নিক্ষেপ
দ্বিতীয় তৎপুরুষ
শরের নিক্ষেপ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
প্রাণবধ
প্রাণের বধ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
অতিমাত্র
মাত্রাকে অতিক্রান্ত
প্রাদি
বেগসংবরণ
বেগকে সংবরণ
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
বজ্রসম
বজ্রের সম
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ক্ষীণজীবী
ক্ষীণভাবে বাঁচে যে
উপপদ তৎপুরুষ
অল্পপ্রাণ
অল্পপ্রাণ যার
বহুব্রীহি
পুত্রলাভ
পুত্রকে লাভ
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
কার্যক্ষতি
কার্যরে ক্ষতি
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
অতিথি সৎকার
অতিথির সৎকার
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ধর্মকার্য
ধর্মবিহিত কার্য
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ভুজবল
ভুজের বল
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ভারার্পণ
ভারের অর্পণ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
তপোবন
তপের নিমিত্ত বন
চতুর্থী তৎপুরুষ
তপোবনদর্শন
তপোবনকে দর্শন
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
কোটরস্থিত
কোটরে স্থিত
সপ্তমী তৎপুরুষ
মুখভ্রষ্ট
মুখ থেকে ভ্রষ্ট
পঞ্চমী তৎপুরুষ
উপলখণ্ড
উপলের খণ্ড
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
বিস্ময়াপন্ন
বিস্ময়কে আপন্ন
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
কর্ণকুহর
কর্ণের কুহর
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
তপস্বিকন্যা
তপস্বীর কন্যা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
অনতিবৃহৎ
নয় অতি বৃহৎ
নঞ তৎপুরুষ
সেচনকলস
সেচনের নিমিত্ত কলস
চতুর্থী তৎপুরুষ
জলসেচন
জলদ্বারা সেচন
তৃতীয়া তৎপুরুষ
অনসূয়া
নেই অসূয়া (ঈর্ষা) যার
বহুব্রীহি
প্রিয়ংবদা
প্রিয়ম্ (প্রিয়বাক্য) বলে যে (স্ত্রী)
উপপদ
কণ্বতনয়া
কণ্বের তনয়া
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
মনোহারিণী
মন হরণ করে যে নারী
উপপদ তৎপুরুষ
স্বভাবসিদ্ধ
স্বভাব দ্বারা সিদ্ধ
তৃতীয়া তৎপুরুষ
অঙ্গুলি সংকেত
অঙ্গুলি দ্বারা সংকেত
তৃতীয়া তৎপুরুষ
নবযৌবন
নব যে যৌবন
কর্মধারয়



যৌবনের গান
শব্দ
ব্যাসবাক্য
সমাসের নাম
মমতারস
মমতা মিশ্রিত রস
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
অলসতন্দ্রা
অলস যে তন্দ্রা
কর্মধারয়
মোহনিদ্রা
মোহ রূপ নিদ্রা
রূপক কর্মধারয়
সৈন্যসামন্ত
সৈন্য ও সামন্ত
দ্বন্দ্ব
সংগীতগুঞ্জন
সংগীতের গুঞ্জন
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ঝরনাধারা
ঝরনার ধারা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
জবাকুসুমসঙ্কাশ
জবাকুসুমের সঙ্কাশ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
তিমিরবিদারী
তিমিরকে বিদীর্ণ করে যা
কর্মধারয়
যৌবনসূর্য
যৌবন রূপ সূর্য
রূপক কর্মধারয়
তিমিরকুন্তলা
তিমিরের ন্যায় কুন্তল যার
উপমিত কর্মধারয়
পাষাণস্তুপ
পাষাণের স্তুপ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
আলোকপিয়াসী
আলোকের পিয়াসী
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
প্রাণচঞ্চল
প্রাণ চঞ্চল যার
বহুব্রীহি
মেঘলুপ্ত
মেঘে লুপ্ত
সপ্তমী তৎপুরুষ
জয়মুকুট
জয়ের জন্য যে মুকুট
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
মার্তণ্ডপ্রায়
মার্তণ্ডের প্রায়
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
নবপৃথিবী
নব যে পৃথিবী
কর্মধারয়
সলিলসমাধি
সলিলে সমাধি
সপ্তমী তৎপুরুষ

একটি তুলসী গাছের কাহিনী

শব্দ
ব্যাসবাক্য
সমাসের নাম
গল্পপ্রেমিক
গল্প প্রেমিক যে
কর্মধারয়
পুষ্পসৌরভ
পুষ্পের সৌরভ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
জ্যোৎস্নারাত
জ্যোৎস্না শোভিত রাত
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
পৃষ্ঠপ্রদর্শন
পৃষ্ঠকে প্রদর্শন
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
দেশভঙ্গ
দেশকে ভঙ্গ
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
জনমানব
জন ও মানব
দ্বন্দ্ব
দেশপলাতক
দেশ থেকে পলাতক
পঞ্চমী তৎপুরুষ
আম-কুড়ানো
আমকে কুড়ানো
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ
অনাশ্রিত
নয় আশ্রিত যে
বহুব্রীহি
সমবেদনা-ভরা
সমবেদনা দিয়ে ভরা
তৃতীয়া তৎপুরুষ
মন্দভাগ্য
মন্দ যে ভাগ্য
কর্মধারয়
মন্দ ভাগ্য যার
বহুব্রীহি
ন্যায়সঙ্গত
ন্যায় দ্বারা সঙ্গত
তৃতীয়া তৎপুরুষ
জীবনসঞ্চার
জীবনের সঞ্চার
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
আবর্জনা-ভরা
আবর্জনা দ্বারা ভরা
তৃতীয়া তৎপুরুষ
গানের আসর
গানের আসর
অলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষ
রান্নাঘর
রান্না করা ঘর
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
রান্নার নিমিত্ত ঘর
চতুর্থী তৎপুরুষ
বেওয়ারিশ
বে (নেই) ওয়ারিশ যার
নঞর্থক বহুব্রীহি
সন্ধ্যাপ্রদীপ
সন্ধ্যার প্রদীপ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
জীবনপ্রদীপ
জীবন রূপ প্রদীপ
রূপক কর্মধারয়
সুখসময়
সুখের সময়
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
গৃহকর্ত্রী
গৃহের কর্ত্রী
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
বাকবিতণ্ডা
বাক দ্বারা বিতণ্ডা
তৃতীয়া তৎপুরুষ
অত্যাচার অবিচার
অত্যাচার ও অবিচার
দ্বন্দ্ব
শ্বাস-প্রশ্বাস
শ্বাস ও প্রশ্বাস
দ্বন্দ্ব
কচুকাটা
কচুর মত কাটা
উপমান কর্মধারয়
অক্ষত
নয় ক্ষত
নঞ তৎপুরুষ
অবিশ্বাস্য
নয় বিশ্বাস্য
নঞ তৎপুরুষ
বেআইনি
বে (নয়) আইনি
নঞ তৎপুরুষ
অপর্যাপ্ত
নয় পর্যাপ্ত
নঞ তৎপুরুষ


যৌবনের গান
শব্দ
ব্যাসবাক্য
সমাসের নাম
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিন
শ্রম-কিণাঙ্কের ন্যায় কঠিন
উপমান কর্মধারয়
বন্য-শ্বাপদ-সঙ্কুল
বন্য-শ্বাপদে সঙ্কুল
সপ্তমী তৎপুরুষ
জরা-মৃত্যু-ভীষণা
জরা-মৃত্যুতে ভীষণা
সপ্তমী তৎপুরুষ
ধরণী-মেরী
ধরনী রূপ মেরী
রূপক কর্মধারয়
খেয়াল-খুশি
খেয়াল ও খুশি
দ্বন্দ্ব
জীবন-আবেগ
জীবনের আবেগ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
উদ্ধত-শির
উদ্ধত শির যার
বহুব্রীহি
সিন্ধু-নীর
সিন্ধুর নীর
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
যৌবন-বেগ
যৌবনের বেগ
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
মরু-কবি
মরুর কবি
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
বিপ্লব-অভিযান
বিপ্লব ও অভিযান
দ্বন্দ্ব
গরল-পিয়ালা
গরলের পিয়ালা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ
গিরি-নিঃস্রাব
গিরি হতে নিঃসৃত যা
বহুব্রীহি
কূপমণ্ডুক
কূপের মণ্ডুক
ষষ্ঠী তৎপুরুষ