Powered by Blogger.

Showing posts with label রসায়ন. Show all posts
Showing posts with label রসায়ন. Show all posts

কোনটা এসিড, কোনটা ক্ষারক,কোনটা লবণ তা নিয়ে তোমরা প্রায় সময়ই ঝামেলায় পড় অথচ কিছু টেকনিক জানলেই তোমরা এ সমস্যার সমাধান পেতে পার ।


 
 যৌগ দেখে কিভাবে এসিড, ক্ষারক, লবণ চিনতে হয় আজ তা নিয়ে আলোচনা করা হবে ।
এর জন্য প্রথমে ধাতু ও অধাতু
সম্পর্কে জানতে হবে ।
_______________
ধাতু = সাধারণত বিক্রিয়ায় যেসব মৌল e দান
করে তারা ধাতু ।
ধাতু e দান করে ধাতব আয়ন বা ধনাত্নক
আয়নে পরিণত হয়।
যেমন → Na, যা e দান করে Na+ আয়নে পরিণত
হয় ।
আরও উদাহরণঃ Ca,Mg,K,Li ইত্যাদি ।
ব্যতিক্রম- H (হাইড্রোজেন) ।
কেননা হাইড্রোজেন e দান করা সত্বেও অধাতু ।

_______________
অধাতু = সাধারণত বিক্রিয়ায় যেসব মৌল e গ্রহণ
করে তারা অধাতু ।
অধাতু e গ্রহণ করে অধাতব আয়ন বা ঋণাত্মক
আয়নে পরিণত হয় ।
যেমন- Cl, যা e গ্রহণ করে Cl- আয়নে পরিণত হয় ।
আরও উদাহরণঃ F,Br,O,Br ইত্যাদি ।

_______________
Just ৪টা সূত্র মনে রাখ , তাহলে এসিড ও ক্ষারক
সহজেই চিনতে পারবে ।
_______________
সূত্র ০১: ধাতুর সাথে H/O/OH-
থাকলে সেগুলো ক্ষারক হবে ।
সূত্র ০২: অধাতুর সাথে H/O/OH-
থাকলে সেগুলো এসিড হবে ।
সূত্র ০৩: ধনাত্নক যৌগমূলক + OH- = ক্ষারক ।
সূত্র ০৪: ঋণাত্মক যৌগমূলক + H+ = এসিড ।
_______________
সূত্রগুলোর ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হল
_______________
ব্যাখ্যা ০১: ধাতুর সাথে হাইড্রোজেন
থাকলে সেটি ক্ষারক ।
যেমন → NaH, MgH2, KH, CaH2
_______________
ব্যাখ্যা ০২ : ধাতুর সাথে অক্সিজেন থাকলেও
সেটি ক্ষারক ।
যেমন → Na2O, MgO, K2O, CaO
_______________
ব্যাখ্যা ০৩ : ধাতুর সাথে হাইড্রোক্সাইড থাকলেও
সেটি ক্ষারক ।
যেমন → NaOH, Mg(OH)2, KOH, Ca(OH)2
_______________
ব্যাখা ০৪: অধাতুর সাথে হাইড্রোজেন
থাকলে সেটি এসিড ।
যেমন → HBr, HCl, HF
ব্যাখা ০৫: অধাতুর সাথে অক্সিজেন
থাকলে সেটি এসিড ।
যেমন → CO²
_______________
ব্যাখা ০৬ : অধাতুর সাথে হাইড্রোক্সাইড
থাকলে সেটি এসিড ।
যেমন → HClO, HBrO, HIO
_______________
ব্যাখা ০৭ : ঋণাত্মক যৌগমূলকের সাথে H+ যুক্ত
হলে এসিড হয় ।
যেমন → HNO3, HNO2
_______________
ব্যাখা ০৮ : ধনাত্নক যৌগমূলকের সাথে OH- যুক্ত
হলে ক্ষারক হয় ।
যেমন → NH4OH.
_______________
লবণ চেনার সূত্রঃ
H+ বাদে যে কোনো ধনাত্নক আয়ন বা মূলক
+
OH- বাদে যে কোনো ঋণাত্মক আয়ন বা মূলক =
লবণ ।
যেমনঃ
Na+ + Cl- → NaCl
Na+ + F- → NaF
NH4+ + Cl- → NH4Cl
_______________
১-২ টা যৌগ হয়তো উপরোক্ত সূত্র নাও
মানতে পারে । এগুলো ব্যতিক্রম ধরে নিবে ।
_______________

pH এর শর্টকাট ট্রিক



.005 M H²SO⁴ এর pH কত ?
→ -log (0.005 x 2) [যেহেতু H ২টা ]
→ -log (.01)
→ 2


pH এর শর্টকাট ট্রিকঃ
যদি দশমিক সংখ্যার শেষ অঙ্ক 1
থাকে তবে দশমিকের
পর যতগুলো অঙ্ক থাকে তার pH তত ।
0.01 M ঘনমাত্রার pH এর কত ?
0.01 এখানে দশমিকের পর দুই ঘর আছে তাই এর pH 2.

জেনে নিন রসায়নের কিছু মজার তথ্য


 

১) আপনি যদি এক গ্লাস পানিতে এক
মুঠো লবন দেন তাহলে তো গ্লাসের
পানি বেড়ে যাবে, তাই না?
দিয়ে দেখুন তো বাড়ে কিনা।
কি অবাক হচ্ছেন? পানির উচ্চতা আরও
কমে গেল, তাই না?

২) আপনার শরীরে যে পরিমান কার্বন
আছে তা দিয়ে ৯০০০ পেন্সিল
বানানো যাবে।

৩) সোনা অনেক দুর্লভ। দাম
তো আকাশচুম্বী। কিন্তু
আপনি কি জানেন,
পৃথিবীতে যে পরিমান
সোনা আছে তা দিয়ে সম্পূর্ণ
পৃথিবী ঢেকে দিলে হাঁটু পরিমান
উচ্চতা হবে।

৪) অক্সিজেন গ্যাস এর কোন বর্ণ নাই,
কিন্তু তরল ও কঠিন অক্সিজেন নীল
বর্ণের।

৫) হাইড্রফ্লুরিক এসিড এত
বেশি ক্ষয়কারী যে গ্লাস
গলিয়ে (dissolve) ফেলে, কিন্তু
তারপরেও এটাকে দুর্বল এসিড বলা হয়।

৬) পৃথিবীর সবচে দুর্লভ মৌল
এস্তেতিন, সারা পৃথিবীতে মাত্র ২৮
গ্রাম এস্তেতিন আছে।

৭) বায়ুমণ্ডলের প্রায় ২০% অক্সিজেন
শুধুমাত্র আমাজন রেইন ফরেস্টের
মাধ্যমেই উৎপন্ন হয়।

৮) সাধারন তাপমাত্রায় ব্রোমিন ও
পারদ এদুটো মৌল ই তরল।

৯) আমরা জানি পানির রাসায়নিক
নাম (H2O) এইচ টু ও, কিন্তু ইউপ্যাক (IUPAC)
অনুযায়ী পানির রাসায়নিক নাম
ডাইহাইড্রজেন মনোঅক্সাইড।

১০)
মহাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়
হাইড্রোজেন কিন্তু
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়
অক্সিজেন (প্রায় ৪৯% বায়ুমণ্ডল
ভুমি সাগর)

১১) বজ্রপাতে প্রতিবছর অনেক লোক
মারা যায়, কিন্তু আপনি কি জানেন
বজ্রপাত না থাকলে পৃথিবীর
প্রাণীকুল ধ্বংস হয়ে যেত। কারন
বজ্রপাতের মাধ্যমেই ওজোন স্তর
তৈরি হয়।

অল্প প্যাঁচাল-যা আপনাকে জারন-বিজারন, জারক-বিজারক কোনদিন ভুলতেই দিবে না !


 


বিশেষ ভাবে মনে রাখতে হবে

জারণ :

১. e- এর অপসারণ
২. ধনাত্মক চার্জ ↑
৩. ঋণাত্মক চার্জ ↓
৪. যোজ্যতা বৃদ্ধি ↑

বিজারণ :

১. e- এর সংযোজন
২. ধনাত্মক চার্জ ↓
৩. ঋণাত্মক চার্জ ↑
৪. যোজ্যতা হ্রাস ↓

জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

জারণে ঘটে :

১. O2 সংযোজন : 2SO2+O2­ = SO2
২. তড়িৎ ঋণাত্মক মৌলের সংযোজন : 2Fe+3Cl2 = 2FeCl3
৩. H2 অপসারণ : H2S+Cl = 2HCl+S
৪. ধনাত্মক মৌলের অপসারণ : 2Cu2O+O2 = 4CuO
৫. যোজ্যতা বৃদ্ধি : 2FeCl2+Cl2 = 2FeCl3 (Fe এর যোজনী 2 থেকে 3 হয়)
৬. ইলেক্ট্রন দান : Fe2+-e- → Fe3+

বিজারণে ঘটে :

১. O2 অপসারণ : CuO+H2O = Cu+H2O
২. তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল/মূলক অপসারণ : 2FeCl3+H2 = 2FeCl2+2HCl
৩. ঋণাত্মক মূলক সংযোজন : HgCl2+Hg = Hg2Cl2
৪. যোজ্যতা হ্রাস : 2FeCl3­+H2 = 2FeCl2+2HCl (Fe এর যোজনী 3 থেকে 2 হয়)
৫. ইলেক্ট্রন দান : Cl+e- → Cl-

জারক ও বিজারক পদার্থ-একটি ছোট্ট তালিকা


জারক পদার্থ সমূহ : F2, O2, MnO2, PbO2, HNO3, CuSO4, KClO3, গাঢ় H2SO4, Cl2, Br2, I2, ইক যৌগসমূহ (FeCl3, SnCl4), (KMnO4+KOH) ও (K2Cr2O7+H2SO4)- এদের মিশ্রণ, পার অক্সাইড, পার অক্সি এসিড ও তাদের লবণ।

বিজারক পদার্থ সমূহ : Na2C2O4, Na2S2O3, H2, C, CO, H2S, HI, HBr, আস যৌগসমূহ (FeO, FeCl2, SnCl2), (Zn+H2SO4) মিশ্রণ, নিম্নতর অক্সি এসিড ও তাদের লবণ।

জারক ও বিজারক পদার্থ সমূহ : SO2, H2O2, O3

আরও সহজে মনে রাখুন পর্যায় সারণির প্রতিটি মৌল !

কিছুদিন আগে পর্যায় সারণী'র মৌলগুলো মনে রাখার কিছু ছন্দ-টিপস দিয়েছিলাম । আজ আবার দিচ্ছি একটু নতুনরূপে, আরও সহজে মনে রাখার জন্য ...




#গ্রুপ_1A:
H Li Na K Rb Cs Fr
হা লায় না কি রাবি-তে কাশ ফেলেছে
or, হালিনা কে রুবিনা ছেঁচে ফেলেছে

#গ্রুপ_2A :
Be Mg Ca Sr Ba Ra
বেয়াদব মাইয়াগো কাম শরীর বাইরে রাখা
or, বিরিয়ানি মোগলাই কাবাব সরিয়ে বাটিতে রাখ

#গ্রুপ_3A :
B Al Ga In Tl
বলে এলাম জাই য়েন তাইলে
or, বোরন আলি গেঞ্জি ইন করে টাই পরে
or,বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গেল ইন্ডিয়া তে

#গ্রুপ_4A:
C Si Ge Sn Pb
ছি! সিলেট গেলেন? সমস্যায় পড়বেন
or,কাপড় ছিঁড়ে গেলে সুঁই পাবেন (কই?)

#গ্রুপ_5A:
N P As Sb Bi
না পারলে আসলে সুবিধা বেশি
or, নাই প্রিয়া আজ সবই বিরহের

#গ্রুপ_6A :
O S Se Te Po
ওর ছোট ছেলেটা টেবিলে পড়ে
or, ও এসএসসি তে পড়ে

#গ্রুপ_7A :
F Cl I Br At
ফেল করলেও আইজ বাড়িতে আসতাম



#পর্যায়_২ :
Li Be B C N O F Ne
লি বেন? বেনী চুড়ি? নিপস্টিক ও ফা ইন





#পর্যায়_৩ :
Na Mg Al Si P S Cl Ar
না! মগা আলু ছিলতে পারে সব কিলি য়ার





#পর্যায়_৪:
Sc Ti V Cr Mn Fe Co Ni Cu Zn
স্কুল টি ভাঙায় চেয়ার ম্যান ফের কমিশন নিয়ে কাজে যাচ্ছেন





#পর্যায়_৫:
Y Zr Nb Mo Tc Ru Rh Pd Ag Cd
ইওর জ্বর নামবে মন টাকে আরো রেস্ট-হতে দাও পারলে আগে কাঁদো





#ল্যান্থানাইডঃ (Collected & Edited)
Ce Pr Nd Pm Sm Eu Gd Tb Dy Ho Er Tm Yb Lu
ছেলের প্রীতি এন্ড প্রেম সমান ইউরোপ গুড তবে ডাইরিয়া হয় এর টমেটো ইয়লো ব্লু





#অ্যাক্টিনাইডঃ (Collected & Edited)
Th Pa U Np Pu Am Cm Bk Cf Es Fm Md No Lr
থাকলে পাশে ইউ এনপি পুঁথি আমার কমেনা বিকেলে ক্যাফেতে এসে এফ এম মোডে নুডলস লাড়ি





বি:দ্র: কেউ অন্য উপায়ে মনে রাখলে এটা মনে রাখার দরকার নেই। কারন, এলামেলো হয়ে যেতে পারে।

রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপের রূপান্তর


সাধারণ তথ্য :
  • রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের অণুসমূহের উপাদান ও অণুর গঠন প্রকৃতির স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে।
  • প্রকৃতপক্ষে সব রাসায়নিক পরিবর্তনে তাপ শক্তির পরিবর্তন ঘটে।
  • ভৌত পরিবর্তনের ফলে পদার্থের বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, এর ফলে নতুন কোন অণুর সৃষ্টি হয় না।

  1. তাপোৎপাদী বিক্রিয়া :
 যে রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয় এবং বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়     তাকে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলে। যেমন-

N2 + 3H2 = 2NH3 + তাপ (92.38 কিলোজুল মোল-1)
2SO2 + O2 = 2SO3 + তাপ (189.12 কিলোজুল মোল-1)
C + O2 = CO2 + তাপ (393.5 কিলোজুল মোল-1)

  1. তাপহারী বিক্রিয়া :
যে রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে তাপ শক্তি শোষিত হয় এবং বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপমাত্রা হ্রাস পায় তাকে তাপহারী বিক্রিয়া বলে। যেমন-

N2 + O2 ⇌ 2NO - তাপ (180.75 কিলোজুল মোল-1)
3O2 ⇌ 2O3 – তাপ (284.51 কিলোজুল মোল-1)
C + 2S ⇌ CS2 – তাপ (92.05 কিলোজুল মোল-1)

  • সকল দহন বিক্রিয়া তাপোৎপাদী বিক্রিয়া।
ব্যতিক্রম- N2 + O2 ⇌ 2NO - তাপ (180.75 কিলোজুল মোল-1)
  • সকল প্রশমন বিক্রিয়া তাপোৎপাদী।

  • বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি > উৎপাদের আভ্যন্তরীণ শক্তি → তাপোৎপাদী বিক্রিয়া
  • বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি < উৎপাদের আভ্যন্তরীণ শক্তি → তাপহারী বিক্রিয়া

  • বিক্রিয়কের শক্তি = উৎপাদের শক্তি + নির্গত শক্তি; তাপোৎপাদী বিক্রিয়া
  • বিক্রিয়কের শক্তি + শোষিত শক্তি = উৎপাদের শক্তি; তাপহারী বিক্রিয়া

  • বন্ধন ভাঙনে শোষিত শক্তি > বন্ধন সৃষ্টির সময় বিমুক্ত শক্তি : তাপহারী বিক্রিয়া
  • বন্ধন সৃষ্টির সময় বিমুক্ত শক্তি > বন্ধন ভাঙনে শোষিত শক্তি : তাপোৎপাদী বিক্রিয়া

  • তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায়, ∆H = -ve
  • তাপহারী বিক্রিয়ায়, ∆H = +ve
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :
  • কোন বস্তুতে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি ও গতিশক্তির মোট সমষ্টিকে ঐ বস্তুর অভ্যন্তরীণ শক্তি বলে। একে দ্বারা E প্রকাশ করা হয়।
  • এনথালপিকে H দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
H = E + PV (এখানে, P= চাপ, V= আয়তন)
  • জুল ও ক্যালরির পারস্পরিক সম্পর্ক হচ্ছে- 1 Cal = 4.184 Joule
  • নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন হতে অ্যামোনিয়া উৎপাদনের ক্ষেত্রে 400°-500°C তাপমাত্রা ব্যবহৃত হয়।


  • প্রমাণ অবস্থায় যে কোন মৌলের সংগঠন তাপ শূণ্য।
  • প্রমাণ অবস্থায় সকল মৌল ও মৌলিক গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি শূণ্য।
  • প্রমাণ বিক্রিয়া তাপের ক্ষেত্রে প্রমাণ অবস্থা বলা হয় 25°C তাপমাত্রা এবং বায়মণ্ডলীয় চাপকে।
  • স্থির আয়তনে বিক্রিয়া তাপ, Qv= ∆H
  • স্থির চাপে বিক্রিয়া তাপ, Qp= Qv+∆nRT
  • হেসের তাপ সমষ্টিকরণ সূত্রের গাণিতিক রূপ :
∆H1= ∆H2+∆H3
এখানে ∆H= শক্তির পরিবর্তন
  • ∆H<0, বিক্রিয়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটবে।
  • ∆G<0, বিক্রিয়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটবে।
  • ∆H>0, বিক্রিয়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটবে। তবে ব্যতিক্রম আছে।
  • ∆G >0বিক্রিয়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটবে না।
  • দ্রবণ তাপে দ্রবের পরিমাণ ১ মোল এবং দ্রাবকের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হতে হয়।
  • কার্বনের প্রমাণ দহন তাপ = 787 কিলোজুল
  • তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের প্রশমন তারে মান 57.32 কিলোজুল
  • স্পর্শ প্রণালীতে H2SO4 প্রস্তুতির সময় 175.7 কিলোজুল তাপ উৎপন্ন হয়।



25°C তাপমাত্রায় তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারকের প্রশমন তাপ, ∆H
এসিড
ক্ষারক
প্রশমন তাপ, ∆H (kj)
HCl
NaOH
-57.34
H2SO4
NaOH
-57.44
HNO3
NaOH
-57.35
HCl
KOH
-57.43

গড় বন্ধন এনথালপি
বন্ধন
kj/mol
H-H
435.5
H-Cl
432
C-H
415
Cl-Cl
243
C-C
344
H-F
563
H-Br
366
H-I
299
O-H
463
C-Cl
328

কতিপয় সংজ্ঞা :
  1. গঠন তাপ : প্রমাণ অবস্থায় কোন যৌগের উপাদান মৌলসমূহ থেকে এর এক মোল উৎপাদনকালে এনথালপি এর যে পরিবর্তন ঘটে তাকে যৌগটির গঠন তাপ বা গঠন এনথালপি বলে। 25°C তাপমাত্রায় ও 1 atm চাপে গঠন এনথালপিকে ∆H°f দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

  1. দহন তাপ : নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও 1 atm চাপে 1 মোল কোন মৌলিক বা যৌগিক পদার্থকে অক্সিজেনে সম্পূর্ণরূপে দহন করলে এনথালপির যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে দহন তাপ বা দহন এনথালপি বলে। প্রমাণ অবস্থায় কোন পদার্থের এক মোলকে অক্সিজেনে সম্পূর্ণরূপে দহন করলে এনথালপির যে পরিবর্তন ঘটে তাকেই ঐ পদার্থের দহন তাপ বা প্রমাণ দহন এনথালপি বলে। একে ∆H°C দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

  1. দ্রবণ তাপ : একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যথেষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে এক মোল দ্রবকে দ্রবীভূত করে যদি দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় এবং তাতে যদি আরো দ্রাবক যোগ করেও তাপীয় অবস্থায় কোন পরিবর্তন ঘটানো না যায় তবে ঐ দ্রবণ প্রস্তুত করতে তাপের যে পরিবর্তন ঘটে তাকে ঐ দ্রবের দ্রবণ তাপ বলে।

  1. প্রশমন তাপ : 25°C তাপমাত্রায় এসিড প্রদত্ত 1 mol H+ কে ক্ষারকের লঘু দ্রবণ দ্বারা প্রশমিত করে 1 mol পানির উৎপন্ন হওয়ার কালে যে পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয় তাকে প্রশমন তাপ বা প্রশমন এনথালপি বলে। সকল তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারকের প্রমশন তাপের মান সমান এবং তা -57.34 kj।

  1. দ্বি-বিযোজন বিক্রিয়া :

নোট : এই অধ্যায়ের তাপোৎপাদী ও তাপাহারী বিক্রিয়ার উদাহরণ এবং উৎপন্ন তাপ বা শোষিত তাপের মানগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ । অনেক সময় উত্তর যাচাই করার জন্য সংজ্ঞাগুলোর সাহায্যের দরকার হয় ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্ন :

২০০৮-০৯
একটি দানাদার যৌগ। এর পানিতে দ্রবীভূত হবার পর্যায় ∆H = -50kj ও সংশ্লিষ্ট এনথালপি ∆H2= +10kj । তাহলে, যৌগটির পানি যোজন এনথালপি,
∆H = ∆H1 + ∆H2
∆H1= ∆H - ∆H2
   = -50 – 10
   = -60 kj
  • 10 g পানি 4°C থেকে 14°C তাপমাত্রায় উন্নীত করতে প্রয়োজন- 100 Cal তাপ
২০০৩-০৪
  • বায়ুর অনুপস্থিতিতে উচ্চমাত্রায় (600°C) কাঠকে দহন করলে পাওয়া যাবে- কোক
১৯৯৯-২০০০
  • দ্বি-বিযোজন বিক্রিয়া- AgNO3 + NaCl ⇒ AgCl + NaNO3
  • দ্রবণ তাপ- দ্রবণ প্রস্তুতকালে উৎপন্ন বা শোষিত তাপ
১৯৯৮-১৯৯৯
  • তাপহারী বিক্রিয়া- N2 + O2 ⇒ 2NO
১৯৯৭-১৯৯৮
  • দ্বি-বিযোজন বিক্রিয়া- AgNO3 + NaCl ⇒ NaNO3 + AgCl

  1. অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের প্রশ্ন :
  • কোন বন্ধনটি সবচেয়ে শক্তিশালী- N≡N (N-H, C≡C, C═O)
  • প্রমাণ অবস্থায় সকল মৌলের সংগঠন তাপ- 0

রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায়-রাসায়নিক গননা


 

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সংজ্ঞা:
  • যৌগের যে কোন মৌলের শতকরা পরিমাণ =
  • 1 amn = 1.66056×10-24g
  • স্থূল সংকেত যৌগের অণুতে বিদ্যমান বিভিন্ন মৌলের পরমাণু সংখ্যার ক্ষুদ্রতম অনুপাত প্রকাশ করে
  • আণবিক সংকেত = n× স্থূল সংকেত
  • অ্যাভোগ্যাড্রোর সংখ্যা, N = 6.023×1023

  • মোল ভগ্নাংশ : দ্রবণের কোন উপাদানের মোল সংখ্যা ও দ্রবণে বিদ্যমান সব উপাদানের মোল সংখ্যার যোগফলের অনুপাতকে সে উপাদানের মোল ভগ্নাংশ বলা হয়

  • স্থূল সংকেত : কোন যৌগের অণুতে কোন কোন মৌল আছে এবং সে সব মৌলের পরমাণুসমূহের সংখ্যা কি ক্ষুদ্রতম পূর্ণসংখ্যার অনুপাতে আছে, তার সংক্ষিপ্ত প্রকাশকে ঐ যৌগের স্থূল সংকেত বলে

  • আণবিক সংকেত : কোন যৌগের অণুতে কোন কোন মৌল আছে এবং প্রতিটি মৌলের পরমাণুসমূহের প্রকৃত সংখ্যা কত তার সংক্ষিপ্ত প্রকাশকে ঐ যৌগের আণবিক সংকেত বলে

  • মোল : কোন যৌগের আণবিক ভরকে গ্রামে প্রকাশ করলে যে পরিমাণ পাওয়া যায় সে পরিমাণকে তার এক মোল বলে

  • গ্রাম পারমাণবিক ভর : কোন মৌলের পারমাণবিক ভরকে গ্রামে প্রকাশ করলে যে পরিমাণ পাওয়া যায়, সে পরিমাণকে তার এক গ্রাম-পারমাণবিক ভর বলা হয়; আধুনিক নিয়মে একেও এক মোল পরমাণু বলা হয়

  • অ্যাভোগ্যাড্রো সংখ্যা : কোন বস্তুর এক মোল পরিমাণে যত সংখ্যক অণু থাকে, সেই সংখ্যাকে অ্যাভোগ্যাড্রো সংখ্যা বলে। একে দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর মান হচ্ছে 6.023×1023

  • মোলার দ্রবণ : কোন দ্রবণের প্রতি লিটারে দ্রব দ্রবীভূত থাকলে তাকে মোলার দ্রবণ বলে

  • মোলারিটি দ্রবণ : কোন দ্রবণের প্রতি লিটারে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যাকে ঐ দ্রবণের মোলারিটি বলে

  • মোলালিটি : প্রতি দ্রাবকে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যাকে দ্রবণের মোলালিটি বলে

  • টাইট্রেশন বা অনুমাপন : উপযুক্ত নির্দেশকের উপস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট আয়তনের কোন পরীক্ষাধীন দ্রবণের সাথে একটি প্রমাণ দ্রবণের মাত্রিক বিক্রিয়া সংঘটিত করে প্রমাণ দ্রবণের তুল্য আয়তন নির্ণয়ের মাধ্যমে পরীক্ষাধীন দ্রবণের ঘনমাত্রা নির্ণয়ের পদ্ধতিকে টাইট্রেশন বা অনুমাপন বলে

  • দ্রবণের মোলারিটি এবং নরমালিটি তাপমাত্রা দ্বারা প্রভাবিত হয় কিন্তু মোলারিটি ক্ষেত্রে তাপমাত্রার কোন প্রভাব নেই
  • অম্ল ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়ায় সমান আয়তনে এক ক্ষারকীয় অম্লের 1.0 মোলার ও এক অম্লীয় ক্ষারকের 1.0 মোলার দ্রবণ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়

প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ :
১. বিশুদ্ধ অবস্থায় নির্দিষ্ট সংযুক্তিতে পাওয়া যায়
২. নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজন করে প্রমাণ দ্রবণ প্রস্তুত করা যায়
৩. পানিত্যাগী, পানিগ্রাহী ও পানিগ্রাসী নয়
৪. দ্রবণের মাত্রা অনেকদিন পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে
৫. বায়ুর জলীয় বাষ্প ও জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় না
উদাহরণ- অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3), K2Cr2O7, আর্দ্র অক্সালিক এসিড (H7C7O4.2H2O), সোডিয়াম অক্সালেট, সাকসিনিক এসিড

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ :
১. এদের বিশুদ্ধ অবস্থায় ও নির্দিষ্ট সংযুক্তিতে পাওয়া যায় না
২. কোনটি পানিগ্রাহী বা পানিত্যাগী
৩. গ্যাস শোষণ করে
৪. জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়
৫. রাসায়নিক নিক্তিতে সঠিক ওজন নিয়ে প্রমাণ দ্রবণ প্রস্তুত করা সম্ভব নয়
৬. এদের দ্রবণের মাত্রা পরিবর্তিত হয়
উদাহরণ- H2SO4, NaOH, KOH, Na2S2O3, KMnO4, HCl

অ্যাভোগ্যাড্রো সংখ্যা ও মোলার আয়তনের গুরুত্ব :
1 মোল অণু = 1 গ্রাম আণবিক ভর = 22.4 dm3 (N.T.P তে) = 6.023×1023 টি অণু
1 টি অণুর ভর =  gm
1 গ্রাম গ্যাসে অণুর সংখ্যা =  টি
1 গ্রাম গ্যাসের N.T.Pতে আয়তন =  dm3
1 টি অণুর N.T.Pতে আয়তন =  dm3
N.T.Pতে dm3 গ্যাসের অণুর সংখ্যা =  টি
মৌলের একটি পরমাণুর ভর =  gm

ঘনমাত্রার মান অনুসারে দ্রবণের বিভিন্ন নাম হয়। যেমন-
1 dm3 দ্রবণে দ্রবীভূত
দ্রবের পরিমাণ (মোল)
দ্রবণের ঘনমাত্রা
দ্রবণের নাম
1.0
1.0M
মোলার দ্রবণ
0.5
0.5M বা M/2
সেমি মোলার দ্রবণ
0.1
0.1M বা M/10
ডেসি মোলার দ্রবণ
0.01
0.01 বা M/100
সেন্টি মোলার দ্রবণ


মোলারিটি নির্ণয়ের সূত্র :
aMBVB = bMAVA
VA = এসিডের আয়তন
MA = এসিডের মোলারিটি
VB = ক্ষারের আয়তন
MB = ক্ষারের মোলারিটি
b = ক্ষারের সহগ
a = এসিডের সহগ
যখন এসিড ও ক্ষার উল্লেখ থাকবে না বা যে কোন একটি উল্লেখ থাকবে, তখন সূত্রটি হবে-
V1S1 = V2S2

  • প্রশমন বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষারের সমতুল্য পরিমাণে বিক্রিয়া করে
  • 5% NaOH দ্রবণ একটি প্রমাণ দ্রবণ
  • শক্তিশালী এসিড ও শক্তিশালী ক্ষারের টাইট্রেশন যে কোন নির্দেশক ব্যবহার করা যায়
  • শক্তিশালী এসিড ও দুর্বল ক্ষারের টাইট্রেশনে মিথাইল অরেঞ্জ উত্তম নির্দেশক
  • দুর্বল এসিড ও শক্তিশালী ক্ষারের টাইট্রেশনে উত্তম নির্দেশক ফেনলফথ্যালিন
  • প্রমাণ দ্রবণকে যে অজ্ঞাত ঘনমাত্রার দ্রবণের মধ্যে যোগ করা হয় তাকে ট্রাইট্রেট বলে
  • রক্ত একটি বাফার দ্রবণ এবং এটিতে মূল বাফার HCO3 । এছাড়াও PO43- ব্যবহৃত হয়


কিছু মৌলের পারমাণবিক ভর : (গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য পারমাণবিক ভর ।অবশ্যই মুখস্ত রাখতে হবে ।)


মৌল
পারমাণবিক ভর
হাইড্রোজেন
1H
1
কার্বন
6C
12
নাইট্রোজেন
7N
14
অক্সিজেন
8O
16
ফ্লোরিন
9F
19
সোডিয়াম
11Na
23
ম্যাগনেসিয়াম
12Mg
24
অ্যালুমিনিয়াম
13Al
27
সিলিকন
14Si
28
ফসফরাস
15P
31
সালফার
16S
32
ক্লোরিন
17Cl
35.5
পটাশিয়াম
19K
39.1
ক্যালসিয়াম
20Ca
40
ক্রোমিয়াম
24Cr
52
ম্যাঙ্গানিজ
25Mn
55
আয়রন
26Fe
55.85
নিকেল
28Ni
58.69
কপার
29Cu
63.5
জিংক
30Zn
65.38
সিলভার
47Ag
107.88
মার্কারি
80Hg
200
গোল্ড
79Au
197

কিছু প্রয়োজনীয় সূত্র :
এসিডের তুল্য ভর =
ক্ষারের তুল্য ভর =

লবণের তুল্য ভর =

প্রতি লিটার দ্রবের গ্রাম হিসেবে ভর = নরমালিটি × দ্রবের তুল্য ভর
1cm3 = 1ml = 1
1000cm3 = 1dm3 = 1L
1000dm3 = 1m3


সংখ্যা বিষয়ক কিছু তথ্য :
40cm3 (M/2) H2SO4 ≡ 20cm3 1(M)H2SO4
35cm3 2(M)H2SO4 ≡ 70cm3 1(M)H2SO4
60cm3 (M/10)NaOH ≡ 6cm3 1(M) NaOH
700ml 0.7(M)HCl ≡ 490ml 1(M) HCl

নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gass/Noble Gass)


  1. He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না বলে নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে। আবার বায়ুতে এদের পরিমাণ খুবই কম (<1%)। এ কারণে এদেরকে বিরল বা দুর্লভ গ্যাসও বলা হয়। এই গ্যাসগুলো খুব একটা ক্ষতিকরও নয়; তাই এদেরকে ‍উত্তম গ্যাসও বলা হয়।

নিষ্ক্রিয় গ্যাস আবিষ্কারক আবিষ্কারের সাল নামের উৎপত্তি/অর্থ
He জ্যানসেন (পরে র‌্যামসে) ১৮৬৮ সূর্য (helios ; the sun)
Ne র‌্যামসে ও ট্র্যাভার্স ১৮৯৮ নতুন (New one; ne+on)
Ar লর্ড র‌্যালে ও ট্র্যাভার্স ১৮৯৪ নিষ্ক্রিয়/অলস (Inset of idle)
Kr র‌্যামসে ও ট্র্যাভার্স ১৮৯৮ গুপ্ত
Xe র‌্যামসে ও ট্র্যাভার্স ১৯০০ নবাগত
Rn ডর্ন (Dorn) ১৯০০ রেডিয়াম বিচ্ছুরণ (Radium emanation; Rad+on)

  • নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো হল- He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn
  • ছয়টি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মধ্যে প্রথম পাঁচটি মৌল সুস্থিত
  • হিলিয়াম এক পরমাণুক গ্যাস এবং রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়।
  • বিজ্ঞানী রেলে এবং র‌্যামসে আর্গনের নামকরণ করেন।
  • নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ সাধারণ তাপ ও চাপে গ্যাস।
  • নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ পর্যায় সারণীতে শূণ্য শ্রেণীতে অবস্থান করে।
  • পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের পরমাণুগুলোর মধ্যকার দুর্বল ভ্যানডার ওয়ালস শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পায়; ফলে এদের গলনাংক ও স্ফুটনাংক ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
  • XeF2 অণুর আকৃতি সরলরৈখিক
  • XeF4 অণুর আকৃতি সমতলীয় বর্গাকার
  • XeF6 অণুর আকৃতি পঞ্চকোণীয় দ্বি-পিরামিডীয়


  • হিলিয়ামের স্ফুটনাংক খুবই নিম্ন এবং এর তরলের কোন সান্দ্রতা নেই্।
  • আর্গন ও হিলিয়াম অপেক্ষা জেনন ও ক্রিপ্টনের উপর ডাইপোলের প্রভাব বেশি দেখা যায়।
  • নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের সকলেই বর্ণহীন ও গন্ধহীন গ্যাস। এদের তরলীকরণ বেশ কষ্টসাধ্য।
  • নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ পানিতে সামান্য পরিমাণ দ্রবণীয়। পারমাণবিক ভরের বৃদ্ধির সাথে সাথে এদের দ্রাব্যতা বৃদ্ধি পায়।
  • ১৮৯৯ সালে রাদারফোর্ড ও ওউইনস থোরিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা থেকে যে গ্যাস আবিষ্কার করেন তার নাম থোরন।
  • জেনন এর বাষ্পঘনত্ব প্রায় ৬৪
  • বিশেষ বিশেষ শর্তে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ কিছু কিছু যৌগ গঠন করে। যেমন-
  • জেনন (Xe) একক ফ্লোরিনের (F) সাথে সরাসরি বিক্রিয়া করে;
  • Xe + F2 → XeF2, জেনন ডাই ফ্লোরাইড
  • XeF2 + F2 → XeF4, জেনন টেট্রা ফ্লোরাইড
  • XeF4 + F2 → XeF6, জেনন হেক্সা ফ্লোরাইড
  • উত্তেজিত অবস্থায় হিলিয়াম (He) বিসমাথ হ্যালাইড (BiHe) ও প্যালাডিয়াম হ্যালাইড (PbHe) গঠন করে।

  1. নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ব্যবহার :
নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার
হিলিয়াম (He) হালকা বলে উড়োজাহাজ ও আবহাওয়া বেলুনে ব্যবহৃত হয়।
গভীর পানির নিচে ডুবুরিগণ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন ও হিলিয়ামের মিশ্রণ ব্যবহার করেন।
হাঁপানির রোগীদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্যও অক্সিজেন ও হিলিয়ামের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
NMR মেশিন ঠাণ্ডা করতে তরল হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়।
গবেষণাগারে নিষ্ক্রিয় পরিবেশে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানোর জন্য হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়।
নিয়ন (Ne) নিয়নবাতি ও রং-বেরংয়ের আলোকসজ্জায়
ভোল্টামিটার ও রেকটিফায়ার যন্ত্র সংরক্ষণে নিয়ন-হিলিয়াম মিশ্রণ ব্যবহৃত হয়।

আর্গন (Ar) বৈদ্যুতিক বাল্বে এখন নাইট্রোজেনের বদলে আর্গন ব্যবহার করা হয়।
তেজস্ক্রিয়তা মাপার যন্ত্র গিগার মুলার কাউন্টারে আর্গন ব্যবহৃত হয়।

ক্রিপ্টন (Kr) টিইব লাইট এবং বৈদ্যুতিক গ্যাস বাল্বে ব্যবহৃত হয়।
জেনন (Xe) ফটোগ্রাফিক ফ্লাশ লাইটে ব্যবহৃত হয়।
রেডন (Rn) ক্যান্সার চিকিৎসা এবং রেডিও থেরাপিতে ব্যবহৃত হয়।

  • XeF2 প্রস্তুতি :
   Xe ও F2 এর মিশ্রণকে তাপমাত্রায় একটি নিকেল টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয় এবং    তারপর তাপমাত্রার একটি টিউবের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করা হয় যেখানে সৃষ্ট XeF2 জমা হয়।

  • XeF4 প্রস্তুতি :
  1:5 অনুপাতে Xe ও F2 এর মিশ্রণকে 6 atm চাপে ও 400°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে XeF4      তৈরি হয়।

  • XeF6 প্রস্তুতি :
   20:1 অনুপাতে Xe ও F2 এর মিশ্রণকে 200-250°C তাপমাত্রায় ও 50 atm চাপে বিক্রিয়া   করালে প্রায় 95% XeF6 তৈরি হয়। তাপ ও চাপ বাড়ালে এই হারও বাড়ে।

  1. নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলির ইলেক্ট্রন বিন্যাস :
 He (2) → 1s2
 Ne (10) →1s2 2s2 2p6
 Ar (18) →3s2 3p6
 Kr (36) →4s2 4p6
 Xe (54)  →5s2 5p6
 Rn (86) →6s2 6p6

  1. বায়ুমণ্ডলে নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের পরিমাণ :
নিষ্ক্রিয় গ্যাস বায়ুমণ্ডলে পরিমাণ বায়ুতে ঘনমাত্রা
হিলিয়াম (He) 0.0005 5.0
নিয়ন (Ne) 0.0015 20.0
আর্গন (Ar) 0.9320 (সবচেয়ে বেশি) 10000
ক্রিপ্টন (Kr) 0.0001 1.0
জেনন (Xe) 0.00001 (সবচেয়ে কম) 0.08
রেডন (Rn)
-
-

লাফিং গ্যাস কিভাবে মানুষকে হাসায় ?

 
১৭৭৫ সালে জোসেফ প্রিস্টলী প্রথম এই গ্যাসটি আবিষ্কার করেন আবার কারো মতে হামফ্রে ডেভী এই গ্যাসের আবিষ্কারক। তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত যে স্যার হামফ্রে ডেভীই প্রথম এই গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করেছিলেন। স্বভাবতই তিনি প্রথম এই গ্যাসের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেন। রাসানিকভাবে লাফিং গ্যাস হলো নাইট্রজেনের একটি অক্সাইড যাকে নাইট্রাস অক্সাইড নামে ডাকা হয়। মৃদ্যু মিষ্টি গন্ধযুক্ত বর্ণহীন এই অক্সাইড মানুষ নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে হাসির উদ্রেক ঘটে। এর প্রধান কাজ মূলত ব্যাথা কমানো হলেও এটি মানুষের মনে চনমনে ভাব তৈরী করে তাই একে আদর করে নাম দেওয়া হয়েছে লাফিং গ্যাস। লাফিং গ্যাসের কাজ করার ধারা নিয়ে মানুষের কৌতুহল দীর্ঘদিনের। পুরোপুরি সঠিকভাবে নাইট্রাস অক্সাইড কাজের ধারা জানা না গেলেও ধারণা করা হয় নিঃশ্বাসের মাধ্যমে যখন নাইট্রাস অক্সাইড গ্রহণ করা হয় তা রক্তের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের ভিতর আমাদের মস্তিষ্কে চলে যায় (মজার জিনিস হলো এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তের সাথে মিশে হিমোগ্লোবিনের সাথে কোনোরকম বন্ধনে জড়ায়না। আর তাই মানবদেহে এর স্থায়িত্ব অল্প সময়ের জন্য). মস্তিষ্কে গিয়ে এই নাইট্রাস অক্সাইড NMDA (গ্লুটামেট রিসেপটর) এ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে একই সাথে Parasympathetic GABA রিসেপটরকে উত্তেজিত করে তোলে। এই উত্তেজিত Parasympathetic GABA রিসেপটর কিছু নিউরোট্রন্সমিটার ক্ষরণ করে যার ফলে মানুষের হাসির উদ্রেক ঘটে, ব্যাথাবোধ হ্রাস পায় (Endorphins নাকম নিউরোট্রান্সমিটার ক্ষরণে সাহায্য করে লাফিং গ্যাস এটি আমাদের ব্যাথাবোধ কমিয়ে দেয়)।

দীর্ঘদিন যাবৎ লাফিং গ্যাসকে পার্টির অনুসঙ্গ হিসাবে ব্যবহার করা হয় আসছে। লাফিং গ্যাস বা নাইট্রাস অক্সাইড যে শুধু হাসির বোধ তৈরী করে তাই নয়, এর সীমিত ব্যবহার মামুষের মনে ফুরফুরে চনমনে ভাব এনে দেয়। উত্তেজিত Parasympathetic GABA রিসেপটর মনুষের ব্যাথাবোধ কমিয়ে দেয়। আবার ক্লোরোর্ফম আবিষ্কারের আগে একে মৃদু চেতনানাশক হিসাবে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে নাইট্রাস অক্সাইডের সাথে ২০% অক্সিজেন যুক্ত করে একে নেশাদ্রব্য হিসাবেও ব্যবহার করা হয় কেননা বার বার লাফিং গ্যাস গ্রহণ করলে তা আসক্তিতে পরিণত হয়।

কিন্তু বেশি পরিমাণে লাফিং গ্যাস গ্রহণের পরিণাম কী? অল্পমাত্রার লাফিং গ্যাস বড়জোর ৫ মিনিট আমাদের শরীরে থাকে। অল্প লাফিং গ্যাস মানুষের হাসির কারণ হলেও বেশি পরিমাণে লাফিং গ্যাস গ্রহণ করলে তা মস্তিষ্কে অক্সিজেন প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত করে এতে মানুষ সাময়িকভাবে অচেতন হয়ে পড়ে, স্নায়ু কোষের ক্ষতিসাধন হয়, এমনকি মৃত্যুও ডেকে আনে।

পর্যায় সারণীর মৌলগুলো মনে রাখার বিশেষ টিপস ।

http://www.wikihow.com/images/4/4d/Memorise-the-Periodic-Table-Step-3.jpg
গ্রুপ 1A: H Li Na K Rb Cs Fr
হায়রে! লি না কে রুবি সাজাবে ফ্রান্সে !

গ্রুপ 2A : Be Mg Ca Sr Ba Ra
বিরিয়ানি, মোগলাই, কাবাব সরিয়ে বাটিতে রাখ ।

গ্রুপ 3A : B Al Ga In Tl
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গেলো ইন্ডিয়া তে!

গ্রুপ 4A: C Si Ge Sn Pb
চলো, সিলেট গেলে সানগ্লাস পাব ।

গ্রুপ 5A: N P As Sb Bi
নদীতে পানি আসে সব বিকালে ।

গ্রুপ 6A : O S Se Te Po
ও এস এসসি তে পড়ে ।

গ্রুপ 7A : F Cl Br I At
First Class British Indian Architect.

ল্যান্থানাইডঃ Ce Pr Nd Pm Sm Eu Gd Tb Dy Ho Er Tm Yb Lu
ছেলে , প্রীতি এন্ড পমসম । ইউরোপ গুড, তবে ডাইরিয়া হয় । আর টমেটো ইয়লো ব্লু !

অ্যাক্টিনাইডঃ Th Pa U Np Pu Am Cm Bk Cf Es Fm Md No Lr
থাকলে পাশে ইউ এনপি, পুঁথি আমার কমেনা। বিকেলে ক্যাফেতে আইনস্টাইন FM, মুড নষ্টের লহর ।

পর্যায়-১ : H He
Hi! He

পর্যায়-২ : Li Be B C N O F Ne
Lies Because Boron Can Not Oxide Florine and Neon.

পর্যায়-৩ : Na Mg Al Si P S Cl Ar
Nations Might Also Sign Peace Security Clause Argument.

পর্যায়-৪: Sc Ti V Cr Mn Fe Co Ni Cu Zn.
Scachin Tiendulkar Very (good) Cricketer Man (of the match) Feor (the) Country Niot (for) CuZn ((cousin))

পর্যায়-৫: Y Zr Nb Mo Tc Ru Rh Pd Ag Cd
Y and Z – two friends – sing “Namba Teacher R-square” (Our teacher R-square) from “Paddy Again” to a Cd.

বুঝার জন্য কত গোজামিল ইউজ করতে হয় :p

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ ।

জারণ-বিজারণ কি খুবই কঠিন ? মোটেও না ! একদম সহজ !!


বিশেষ ভাবে মনে রাখতে হবে
  • জারণ :
  ১. e- এর অপসারণ
  ২. ধনাত্মক চার্জ ↑
  ৩. ঋণাত্মক চার্জ ↓
  ৪. যোজ্যতা বৃদ্ধি ↑

  • বিজারণ :
   ১. e- এর সংযোজন
   ২. ধনাত্মক চার্জ ↓
   ৩. ঋণাত্মক চার্জ ↑
   ৪. যোজ্যতা হ্রাস ↓

  • জারণ  = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
  • জারক  = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
  • বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
  • বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

  • জারণে ঘটে :
  ১. O2 সংযোজন : 2SO2+O = SO2
  ২. তড়িৎ ঋণাত্মক মৌলের সংযোজন : 2Fe+3Cl2 = 2FeCl3
  ৩. H2 অপসারণ : H2S+Cl = 2HCl+S
  ৪. ধনাত্মক মৌলের অপসারণ : 2Cu2O+O2 = 4CuO
  ৫. যোজ্যতা বৃদ্ধি : 2FeCl2+Cl2 = 2FeCl3 (Fe এর যোজনী 2 থেকে 3 হয়)
  ৬. ইলেক্ট্রন দান : Fe2+-e- → Fe3+

  • বিজারণে ঘটে :
  ১. O2 অপসারণ : CuO+H2O = Cu+H2O
  ২. তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল/মূলক অপসারণ : 2FeCl3+H2 = 2FeCl2+2HCl
  ৩. ঋণাত্মক মূলক সংযোজন : HgCl2+Hg = Hg2Cl2
  ৪. যোজ্যতা হ্রাস : 2FeCl+H2 = 2FeCl2+2HCl (Fe এর যোজনী 3 থেকে 2 হয়)
  ৫. ইলেক্ট্রন দান : Cl+e- → Cl-


  • জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়
  • বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়
  • জারক পদার্থে সর্বদা অক্সিজেন থাকা আবশ্যক নয়
     
  • জারক হিসেবে হ্যালোজেনসমূহকে নিম্নরূপে সাজানো যায়-F2>Cl2>Br2>I2

  • বিজারক হিসেবে হ্যালোজেনসমূহকে নিম্নরূপে সাজনো যায়-I->Br->Cl->F-

  • পটাশিয়াম ফেরিসায়ানাইড (k3[Fe(CN)6 একটি জারক পদার্থ
  • পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4) একটি শক্তিশালী জারক
  • পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দ্বারা টাইট্রেশনে কোন নির্দেশক প্রয়োজন হয় না
  • ক্লোরিনের জারণ সংখ্যা সব সময় -1 হয়
  • মুক্ত অবস্থায় মৌলের যোজনী শূণ্য

জারণ সংখ্যা নির্ণয়ের নিয়মাবলী :

যে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
বিবরণ

মৌল
মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যা শূণ্য। যেমন, ধাতু, H2, Cl2, Fe, Cu ইত্যাদি

এক পারমাণবিক আয়ন
জারণ সংখ্যা আয়নের আধানের সমান। Fe3+, Fe2+, Cl-, O2- আয়নের জারণ সংখ্যা যথাক্রমে +2, +3,  -1, -2 । IA এবং IIA এবং IIIA গ্রুপসমূহের ধাতুর যৌগে ধাতুর পরমাণুর জারণ সংখ্যা এই ধাতুর গ্রুপ নম্বর।

হ্যালোজেন
ক) সকল যৌগে F এর জারণ সংখ্যা -1
খ) হ্যালোজেন এবং O ব্যতীত অন্য যে কোন মৌলের পরমাণুর সাথে গঠিত দ্বিপারমাণবিক যৌগে হ্যালোজেন পরমাণুর জারণ সংখ্যা -1
গ) কোন হ্যালোজেন পরমাণুর সাথে উপরের পর্যায়ের হ্যালোজেন পরমাণুর জারণ সংখ্যা হবে +1
যেমন, ICl-এ I এর জারণ সংখ্যা +1 এবং Cl এর জারণ সংখ্যা -1

অক্সিজেন
বেশির ভাগ যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2, তবে পারঅক্সাইডে (যেমন H2O2) -O-O- বন্ধন থাকার ফলে O পরমাণুর জারণ সংখ্যা -1। এছাড়া F এর সাথে গঠিত যৌগে O এর জারণ সংখ্যা ধনাত্মক।

হাইড্রোজেন
বেশির ভাগ যৌগে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1। তবে ধাতুর সাথে হাইড্রাইড গঠিত হলে (যেমন NaH) এর জারণ সংখ্যা হবে -1

যৌগ ও যৌগমূলক
যৌগের কোন অণুতে বা সংকেত এককে সকল পরমাণুর জারণ সংখ্যার যোগফল শূণ্য হবে। তাই যৌগমূলকের ক্ষেত্রে এই যোগফল যৌগমূলকের আধানের সমান হবে। যৌগ মূলকের আধানকে তার জারণ সংখ্যা ধরা হয়।

কিছু মৌলের বিক্রিয়ার পূর্বে ও পরে জারণ সংখ্যা :
মৌল
জারণ সংখ্যা
বিক্রিয়ার পূর্বে
বিক্রিয়ার পরে
Cr
+6
-3
Fe
+2
-3
Fe
+3
-2
Mn
+7
-2
Cu
+2
 0


  • আয়োডিমিতি : প্রমাণ আয়োডিন দ্রবণের সাহায্যে ট্রাইট্রেশন করার পদ্ধতি। আয়োডিমিতি প্রক্রিয়ায় বিজারক পদার্থ যেমন- সালফেট, থায়োসালফেট, সালফাইট, আয়োডিন ইত্যাদির পরিমাণ নির্ধারণ করে

  • আয়োডোমিতি : রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন মুক্ত আয়োডিনের সাহায্যে ট্রাইটেশনের মাধ্যমে নির্ণয় পদ্ধতি। আয়োডোমিতি প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট জারক যেমন- CuSO4, ডাইক্রোমেট, পারম্যাঙ্গানেট ইত্যাদির পরিমাণ নির্ধারণ করে

  • ট্রাইটেশনে আয়োডিন ব্যবহারের অসুবিধা :
      ১. আয়োডিন উচ্চ বায়ুচাপের কারণে কিছু বাষ্পীভূত হয়ে যায়
      ২. অতিরিক্ত কিছু মুক্ত আয়োডিন সৃষ্টি

  • নির্দেশক : দুর্বল জৈব এসিড বা ক্ষার যারা বর্ণ পরিবর্তন দ্বারা অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণকে নির্দেশ করে।
ব্যবহার-
১. অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণ নির্দেশ করে
২. অম্ল ক্ষার বিক্রিয়ায় শেষ বিন্দু নির্দেশ করে
৩. PH অম্লীয় না ক্ষারীয় তা নির্দেশ করে
বৈশিষ্ট্য-
১. দ্রবণে বিভাজিত হয়ে বিভিন্ন বর্ণের আয়ন দেয়
২. যত বেশি শক্তিশালী এসিড হবে, তত কম PH-এ বিযোজিত হবে

  • K2Cr2O7 দ্বারা ট্রাইটেশন :
ব্যবহারের সুবিধা-
১. বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং গলনাংক পর্যন্ত স্থির থাকে
২. K2Cr2O7-এর ঘনমাত্রা বহুদিন পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে
৩. আলোক বা সাধারণ জৈব যৌগ দ্বারা ডাইক্রোমেট দ্রবণ সমূহ সহজে বিজারিত হয় না
৪. কক্ষ তাপমাত্রায় দ্বারা HCl বিজারিত হয় না
৫. KMnO4 স্বনির্দেশক হলেও K2Cr2O7 তা করে না

  • স্টার্চ ব্যবহারের অসুবিধা :
  ১. স্টার্চ ঠাণ্ডা সানপেনসন অদ্রবণীয়
  ২. আয়োডিনের সাথে যে জটিল ধরনের যৌগ উৎপন্ন করে তা কতক্ষণ রেখে দিলে পানিতে       অদ্রবণীয় হয়ে যায়
  ৩. অতিরিক্ত দ্রবণে লঘু স্টার্চ ব্যবহারে সমাপ্তি বিন্দু তত্ত্বীয় সমাপ্তি বিন্দু থেকে কিছুটা বিচ্যুত  হয়

  • জারক পদার্থ সমূহ : F2, O2, MnO2, PbO2, HNO3, CuSO4, KClO3, গাঢ় H2SO4, Cl2, Br2, I2, ইক যৌগসমূহ (FeCl3, SnCl4), (KMnO4+KOH) ও (K2Cr2O7+H2SO4)- এদের মিশ্রণ, পার অক্সাইড, পার অক্সি এসিড ও তাদের লবণ।

  • বিজারক পদার্থ সমূহ : Na2C2O4, Na2S2O3, H2, C, CO, H2S, HI, HBr, আস যৌগসমূহ (FeO, FeCl2, SnCl2), (Zn+H2SO4) মিশ্রণ, নিম্নতর অক্সি এসিড ও তাদের লবণ।

  • জারক ও বিজারক পদার্থ সমূহ : SO2, H2O2, O3

সহজেই শিখে নিই পর্যায় সারণীর খুঁটিনাটি ।

একই ধরনের ধর্মবিশিষ্ট মৌলসমূহকে একই শ্রেণীভুক্ত করে, আবিষ্কৃত সব মৌলকে স্থান দিয়ে মৌলসমূহহের যে সারণী বর্তমানে প্রচলিত, তাকে মৌলের পর্যায় সারণী বলে।



বিজ্ঞানী মেন্ডেলিফ’কে পর্যায় সারণীর জনক বলে।
পর্যায় সূত্র আবিষ্কার করেন মেন্ডেলিফ।

নিউল্যান্ডের অষ্টক সূত্র : ১৮৬৪ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী জন নিউল্যান্ডস লক্ষ্য করেন, ‘মৌলসমূহকে তাদের পারমাণবিক ভরের ক্রম অনুসারে সাজালে দেখা যায়, যে কোন মৌল থেকেই শুরু করে অষ্টম মৌলে ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের পুনরাবৃত্তি করে।’ সঙ্গীতের স্বরলিপির সাতটি স্তরের পুনরাবৃ্ত্তির (সা রে গা মা পা ধা নি সা) সঙ্গে মিল দেখে নিউল্যান্ডস এ সূত্রের নাম দেন অষ্টক সূত্র।

ডোবেরিনায়ের ত্রয়ী সূত্র : ১৮২৯ সালে ডোবেরিনায়ের মৌলসমূহকে সাজানোর জন্য ত্রয়ী সূত্র নামে একটি সূত্র প্রদান করেন। এই সূত্র অনুসারে রাসায়নিক ধর্মে সাদৃশ্য পূর্ণ তিনটি করে মৌলকে সাজিয়ে নিলে দেখা যায় যে, উক্ত মৌল তিনটির পারমাণবিক ভর নিয়মানুসারে পরিবর্তিত হয় এবং এই তিনটি মৌলের মধ্যমটির পারমাণবিক ভর প্রথম ও তৃতীয় মৌলের পারমাণবিক ভরের গড় মানের প্রায় সমান অথবা সমান। যেমন-

মৌল পারমাণবিক ভর মৌল পারমাণবিক ভর মৌল পারমাণবিক ভর
Ca 40 Li 7 Cl 35.5
Sr 87 Na 23 Br 80
Ba 137 K 39 I 127
Ca ও Ba এর পারমাণবিক ভরের গড় (40+137)/2 = 88.5 Li ও K এর পারমাণবিক ভরের গড় ((7+39)/2 = 23 Cl ও I এর পারমাণবিক ভরের গড় (35.5+127)/2 = 81.25

  • পর্যায় সারণীর প্রথম পর্যায়ে মাত্র দুটি মৌল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম আছে।
  • পর্যায় সারণীতে ৭টি পর্যায় এবং ৯টি শ্রেণী আছে।
  • বিজ্ঞানী নিউল্যান্ডস ১৮৬৪ সালে নিউল্যান্ডের অষ্টক সূত্র প্রদান করেন।
  • GeO2 আপেক্ষিক গুরুত্ব 4.7 এবং GeCl4 এর স্ফুটনাংক 86°C
  • ধাতু হবার কারণে IA মৌলগুলো তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
  • IA মৌলসমূহ রৌপ্য বর্ণের ও উজ্জ্বল।
  • ইলেক্ট্রন বিন্যাস অনুযায়ী মৌলসমূহকে ৪টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়-
১. s– ব্লক মৌল; উদাহরণ- H, He, Li
২. p– ব্লক মৌল; উদাহরণ- Al, Ar
৩. d– ব্লক মৌল; উদাহরণ-Sc, Zn, CD
৪. f– ব্লক মৌল; উদাহরণ- Ac, As

  • মৌলের ধর্মাবলী মৌলের পারমাণবিক সংখ্যানুসারে পর্যায়ক্রম আবর্তিত হয়।
  • মৌলের স্ফুনাংক পর্যায়ক্রম পরিবর্তিত হয়।
  • f-ব্লক মৌলসমূহকে আভ্যন্তরীণ অবস্থান্তর মৌল বলে।
  • মৌলের আয়নিকরণ বিভব একটি পর্যায়বৃত্তিক ধর্ম।

পর্যায় সারণীর ত্রুটি :


মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণীর ত্রুটি :

১. পারমাণবিক ভর অনুসারে সজ্জিতকরণে ত্রুটি
২. মৌলের অবস্থানের সঙ্গে ধর্মের অসামঞ্জস্যতা

আধুনিক পর্যায় সারণীর ত্রুটি :

১. হাইড্রোজেনের অবস্থান
২. অষ্টম শ্রেণীর অসামঞ্জস্যতা
৩. ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সারির অবস্থান


  • ল্যান্থানাইড বর্গকে বিরল মৃত্তিকা মৌল বলে।
    ক্ষারধাতুগুলির সর্ব বহিঃস্তরে ১টি মাত্র ইলেক্ট্রন থাকে।
  • IIA শ্রেণীর মৌলগুলিকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।
  • মৃৎক্ষার ধাতুর সর্ব বহিঃস্তরে ২টি ইলেক্ট্রন দ্বারা s  অরবিটাল পূর্ণ থাকে।
  • পর্যায় সারণীতে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলির অবস্থান শূণ্য শ্রেণীতে।
  • Al এর গলনাংক Na অপেক্ষা বেশি।
  • ক্ষার ধাতুগুলি পর্যায় সারণীতে IA শ্রেণীতে অবস্থিত।
  • একই শ্রেণীর উপর হতে নিচের দিকে আয়নিকরণ শক্তি কমে যায়।
  • একই পর্যায়ের বাম হতে ডান দিকে ক্রমান্বয়ে আয়নিকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায়।
  • হ্যালোজেনসমূহ পর্যায় সারণীর VIIA শ্রেণীতে অবস্থিত।